ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ঘরে বসে কাজ করার যুগে আমাদের অনেকেরই সঙ্গী এখন হেডফোন বা এয়ারপড। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কানে হেডফোন গুঁজে রাখা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি ঘরের অন্য সদস্যদের ডাক বা চারপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার একটা ভয়ও থাকে। ঠিক এই জায়গাতেই বাজিমাত করতে এসেছে মার্কিন অডিও জায়ান্ট সোনোস-এর নতুন হাইব্রিড স্পিকার ‘সোনোস প্লে’।
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর গত মার্চে বাজারে আসা ২৯৯ ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ টাকা) মূল্যের এই স্পিকারটি একই সঙ্গে একটি প্রিমিয়াম ডেস্ক স্পিকার এবং একটি পোর্টেবল আউটডোর স্পিকার। কেমন হলো সোনোসের এই নতুন চমক? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর খুঁটিনাটি।
ডিজাইন ও বহনযোগ্যতা : ঘরের ভেতরে ও বাইরে
সোনোস প্লে দেখতে বেশ আকর্ষণীয়, একটি পিল-শেপড ডকের ওপর এটি বসে থাকে। এর ওজন মাত্র ১.৩ কেজি এবং পেছনে একটি চমৎকার ‘ইউটিলিটি লুপ’ বা হাতল রয়েছে। ফলে কাজের টেবিল থেকে এটিকে অনায়াসে রান্নাঘর, ডাইনিং টেবিল কিংবা ঘরের বাইরের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, রান্না করতে করতে বা কফি বানানোর সময় গান বা পডকাস্ট শোনার জন্য এখন আর কানে এয়ারপড গুঁজে রাখতে হবে না। ফলে ঘরের অন্য কেউ কথা বললে তা মিস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্থায়িত্ব এবং ব্যাটারি লাইফ
স্পিকারটি বেশ মজবুত এবং এতে রয়েছে আইপি৬৭রেটিং। এর মানে হলো এটি পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফ এবং ডাস্টপ্রুফ। হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে কিংবা অসাবধানতাবশত পানির ট্যাপের নিচে পড়ে গেলেও স্পিকারটির কোনো ক্ষতি হবে না। আউটডোরে ব্যবহারের জন্য এতে রয়েছে আরও একটি চমৎকার বোনাস ফিচারÑ জরুরি মুহূর্তে এটি আপনার ফোনের জন্য পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও কাজ করতে পারবে!
সাউন্ড কোয়ালিটি : কেমন বাজল?
ভেতরের টেকনোলজির কথা বলতে গেলে, সোনোস প্লে-তে রয়েছে ডুয়াল-অ্যাঙ্গেল টুইটার, একটি মিড-উফার এবং তিনটি ডিজিটাল অ্যাম্প্লিফায়ার। আউটডোরে বেস বুস্ট করার জন্য রয়েছে দুটি প্যাসিভ রেডিয়েটর।
ভালো দিক : মাঝারি ভলিউমের সাউন্ড অত্যন্ত ব্যালেন্সড এবং ডিটেইলড। গানের প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র আলাদাভাবে খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায়।
দুর্বল দিক : এর সাউন্ডস্টেজ কিছুটা সংকীর্ণ। অর্থাৎ, এটি পুরো ঘর কাঁপানো আওয়াজ তৈরি করতে পারে না। ভলিউম একদম ফুল বা সর্বোচ্চ করে দিলে সাউন্ডের ক্লিয়ারিটি কিছুটা কমে যায়।
প্রো-টিপ : আপনি চাইলে দুটি সোনোস প্লে স্পিকারকে একসঙ্গে পেয়ার করে ‘স্টিরিও সাউন্ড’ উপভোগ করতে পারেন। এর জন্য অ্যাপ ব্যবহার করারও প্রয়োজন নেই, দুটি স্পিকারের প্লে/পজ বাটন একসঙ্গে চেপে ধরলেই তারা যুক্ত হয়ে যায়।
স্মার্ট ফিচার এবং অটো-টিউনিং
স্পিকারটিতে বিল্ট-ইন হিসেবে থাকছে সোনোস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অ্যামাজন অ্যালেক্সা। ফলে হাত নোংরা বা ব্যস্ত থাকলে ভয়েস কমান্ড দিয়েই গান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
তবে এর সবচেয়ে দারুণ ফিচার হলো ‘ট্রু-প্লে’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্পিকারটি তার নিজস্ব মাইক্রোফোন ব্যবহার করে ঘরের দেয়াল বা আসবাবপত্রের অবস্থান বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাউন্ডের টিউনিং করে নেয়। আগের মডেলগুলোর মতো ফোন হাতে নিয়ে পুরো ঘরে ঘুরে ঘুরে টিউনিং করার ঝক্কি এতে নেই।
কিছু খামতি ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা
১০০ ভাগ নিখুঁত কোনো গ্যাজেট হয় না, সোনোস প্লে-র ক্ষেত্রেও কিছু জায়গায় খটকা রয়েছে:
বাটন ডিজাইন : স্পিকারের ওপরের সিলিকন বডির বাটনগুলো একই
রঙের এবং খুব একটা উঁচু নয়। ফলে শুরুতে বাটন খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।
অ্যাপের জটিলতা : সোনোস-এর মোবাইল অ্যাপটি মাঝে মাঝে কিছুটা ল্যাগ বা ধীরগতির মনে হতে পারে। বিশেষ করে ম্যাকবুক বা ইউটিউবের সঙ্গে কানেক্ট করার সময় সামান্য অডিও ডিলে বা বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া পডকাস্ট অ্যাপ ‘পকেট কাস্টস’ ব্যবহারের সময় পডকাস্ট মাঝখান থেকে রিজিউম না হয়ে একদম শুরু থেকে চালু হওয়ার একটি বাগ রয়েছে।
শেষ কথা : কিনবেন কি কিনবেন না?
আপনি যদি এমন একটি স্পিকার চান যা আপনার কাজের টেবিলে যেমন মানিয়ে যাবে, তেমনি বিকেলে বারান্দায় চায়ের আড্ডাতেও সঙ্গী হবে তবে ২৯৯ ডলারের ‘সোনোস প্লে’ আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ।
তবে আপনার যদি পোর্টেবিলিটি বা বহনের সুবিধার প্রয়োজন না হয় এবং কেবল ঘরের ভেতরের জন্য জোরালো সাউন্ড চান, তবে সোনোস-এরই এরা ১০০ (২০০) ডলার বা এরা ১০০ এসএল (১৮৯ ডলার) কম খরচে আরও ভালো বিকল্প হতে পারে।

