ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

লোডশেডিংয়ে নষ্ট হতে পারে ফ্রিজের কম্প্রেসার

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক এলাকাতেই এখন নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং হচ্ছে। আর এই লোডশেডিংয়ের সময় আমাদের অজান্তেই করা ছোট একটি ভুল চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে ঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি যন্ত্র ফ্রিজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এবং পুনরায় ফিরে আসার সময় অসচেতনভাবে ফ্রিজ ব্যবহার করলে এর সবচেয়ে দামি অংশ ‘কম্প্রেসার’ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কমে যেতে পারে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব।

ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার সময়ে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বিদ্যুৎ আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজ চালু নয়

লোডশেডিং শেষে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ফ্রিজ চালু করে দেন বা প্লাগ লাগিয়ে রাখেন। এটি ফ্রিজের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক মিনিট ভোল্টেজ মারাত্মকভাবে ওঠানামা করে। এই অস্থির ভোল্টেজ সরাসরি ফ্রিজের কম্প্রেসারে আঘাত করে তা বিকল করে দিতে পারে। তাই বিদ্যুৎ আসার পর অন্তত ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করে ফ্রিজ চালু করা উচিত।

২. বারবার দরজা খোলার অভ্যাস বন্ধ করুন

বিদ্যুৎ না থাকাকালীন ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা একদম উচিত নয়। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বজায় থাকে, ফলে খাবারও নষ্ট হয় না। বারবার দরজা খুললে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভেতরের ঠান্ডা আবহাওয়া দ্রুত হারিয়ে যায়।

৩. ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার

যেসব এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে, সেখানে ফ্রিজের প্লাগের সঙ্গে একটি ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এটি অনাকাক্সিক্ষত হাই-ভোল্টেজ বা লো-ভোল্টেজ থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশকে শতভাগ সুরক্ষা দেয়।

৪. ঘন ঘন চালু ও বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন

ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ যদি কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বারবার আসা-যাওয়া করে, তবে ফ্রিজটি পুরোপুরি বন্ধ করে রাখাই শ্রেয়। ঘন ঘন ফ্রিজ চালু আর বন্ধ হলে যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার পরই কেবল ফ্রিজ অন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৫. তাপমাত্রা ও খাবার পরীক্ষা করুন

দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে বিদ্যুৎ আসার পর ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা কুলিং সেটিংস ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা যাচাই করে নিন। প্রয়োজনে সেটিংস পুনরায় সমন্বয় করুন। একই সঙ্গে ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংস বা দুগ্ধজাতীয় খাবারে কোনো পচন বা অস্বাভাবিক গন্ধ তৈরি হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে তবেই গ্রহণ করুন।

ফ্রিজ এখন প্রতিটি পরিবারের একটি অপরিহার্য অংশ। লোডশেডিংয়ের পর সামান্য একটু সতর্কতাÑ যেমন ভোল্টেজ স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা এবং অযথা দরজা না খোলা আপনার ফ্রিজের আয়ু যেমন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তেমনি আপনাকে বাঁচাবে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থেকে।