ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রযুক্তির বিপ্লব

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৭ এএম

ফুটবল এখন আর শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতার লড়াই নয়, এর সঙ্গে সমানতালে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পরিচালনা, ম্যাচ বিশ্লেষণ, বলের নকশা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম সবখানেই প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ফলে খেলা যেমন আরও নির্ভুল হচ্ছে, তেমনি দর্শকরাও পাচ্ছেন ভিন্ন মাত্রার অভিজ্ঞতা।

রেফারির চোখে ম্যাচ দেখার সুযোগ

এবারের বিশ্বকাপে রেফারিদের শরীরে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশেষ বডি ক্যামেরা, যা দর্শকদের সরাসরি রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বিতর্কিত ফাউল, গোল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারি কী দেখেছেন, তা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভিডিও বিশ্লেষণের সময় ত্রিমাত্রিক গ্রাফিক্স ও উন্নত ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে অফসাইডসহ জটিল সিদ্ধান্ত সহজে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

খেলোয়াড় বদলেও এসেছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

খেলার গতি বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন মাঠের প্রশাসনিক কাজেও পৌঁছে গেছে। খেলোয়াড় পরিবর্তনের জন্য কাগজভিত্তিক পদ্ধতির বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল সাবস্টিটিউশন ট্যাবলেট। এর মাধ্যমে পরিবর্তনের তথ্য মুহূর্তেই ম্যাচ কর্মকর্তা ও সম্প্রচার সংস্থার কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে বল মাঠের সীমার বাইরে গেছে কি না, তা নির্ধারণে আধুনিক সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি রেফারিদের সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কৌশল নির্ধারণ

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলো এখন ডেটা অ্যানালিটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা পাচ্ছে। উন্নত এআই সিস্টেম ম্যাচের অসংখ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে কোচিং স্টাফকে কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে।

প্রতিপক্ষের খেলার ধরন, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে দ্রুত বিশ্লেষণ দেওয়ায় প্রস্তুতি আরও কার্যকর হচ্ছে।

স্মার্ট প্রযুক্তিতে তৈরি অফিসিয়াল বল

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’ আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি। সীমিতসংখ্যক প্যানেল দিয়ে নির্মিত এই বলের বিশেষ আকৃতি বাতাসে এর গতিপথকে আরও স্থিতিশীল রাখে।

বলের ভেতরে থাকা উচ্চক্ষমতার সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শত তথ্য সংগ্রহ করে ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়, যা বলের অবস্থান ও গতি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।

থ্রি-ডি প্রিন্টেড বুটে বাড়ছে আরাম ও নিয়ন্ত্রণ

খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নত করতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

বিশ্বকাপে বেশ কয়েকজন ফুটবলার ব্যবহার করছেন থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ বুট, যা হালকা, আরামদায়ক এবং বল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। উন্নত উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব বুট শট নেওয়ার সময় বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে সাহায্য করছে।

প্রযুক্তির এই ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে ফুটবল এখন আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট সেন্সর এবং উন্নত বিশ্লেষণী ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।