আগামী ১ মার্চ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বিমানের সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইটটি। লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন লন্ডন প্রবাসীরা। নর্থ ইংল্যান্ডের প্রায় চার লাখ প্রবাসী দীর্ঘদিন এই রুটে যাতায়াত করে আসছেন। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রুটটি প্রাথমিক লোকসান কাটিয়ে যখন লাভজনক অবস্থানে তখনই বন্ধের সিদ্ধান্তে অবাক করেছে প্রবাসীদের।
ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা বাবুল মিয়া রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিমানের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের হতাশ করেছে। অন্যান্য রুটে লোকসান হলেও সেটা বহাল রয়েছে। আমরা নিশ্চিত বিমানের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে এতে, না হলে লাভজনক রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে অন্য রুটে বহাল রাখার কোনো মানে হয় না।
ওল্ডহ্যামের বাসিন্দা আফরোজ আলী বলেন, এই রুটে বিমানের ফ্লাইটটি চালু থাকলে তো বিমান লাভবান হচ্ছে। যখন লোকসান হচ্ছিল তখন বন্ধ করলে সেটা যৌক্তকতা ছিল। এখন আমাদের পাশাপাশি রাষ্ট্র যেখানে লাভবান হচ্ছে তখনই বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত ফায়দার অংশ বলে আমি মনে করি। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো উচিত।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, লিডস, ইয়র্কশায়ার, ব্রাডফোর্ড, বার্মিংহাম ও স্কটল্যান্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটি এরই মধ্যেই সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে আলটিমেটাম দিয়েছে। হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ মহলে স্মারকলিপি দেওয়া শুরু হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে অংশ নেন ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানীয় কাউন্সিলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। আগামী ১৩ জানুয়ারি গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার এক সংবাদ সম্মেলন করবে।
১ ফেব্রুয়ারি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে গ্রেটার সিলেটের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমান কর্তৃপক্ষ সেটা ১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ সংকট, আসন্ন হজ কার্যক্রমের প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে নেটওয়ার্কজুড়ে বিমানের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরিচালন দক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে কিছু রুটে সাময়িক সমন্বয় আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে।
তবে বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, যখন একটি রুট আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং উচ্চ চাহিদার মৌসুমে প্রবেশ করছে, তখন সেটি বন্ধ করা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসংগত নয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়টি প্রবাসী যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। এই সময় বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক সফরের জন্য ইউকে থেকে বাংলাদেশে যাতায়াত বাড়ে। ফলে লাভজনক একটি রুট বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে তারা অপরিণত ও দূরদর্শিতার অভাব হিসেবে দেখছেন।
ম্যানচেস্টার ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই রুট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের এই অঞ্চলে চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, যাদের বড় একটি অংশের শিকড় সিলেট বিভাগে। সিলেট হয়ে সরাসরি ম্যানচেস্টার ফ্লাইট তাদের জন্য সময় ও খরচ দুদিক থেকেই সুবিধাজনক ছিল। ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের লন্ডন কিংবা অন্য ইউরোপীয় হাব ব্যবহার করে বাড়তি ঝামেলা ও ব্যয়ের মুখে পড়তে হবে।

