ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সচেতনতায় কমবে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৬:৫০ এএম

সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আর স্তন ক্যানসারে নারীদের মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এতদিন স্তন ক্যানসারের ব্যাপারে নারীদের সচেতন করার জোরটা ছিল বেশি, কিন্তু এখন পুরুষদেরও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা দিতে পারে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪১ হাজার মহিলা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

লক্ষণ বা উপসর্গ : ১. স্তনের কোনো অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া অথবা কোনো লাম্প দেখা যাওয়া; ২. স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন; ৩. স্তনবৃন্তের আকারে পরিবর্তন; ৪. স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ বের হওয়া; ৫. স্তনবৃন্তের আশপাশে রাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যাওয়া; ৬. বগলে ফুলে যাওয়া বা চাকা দেখা দেওয়া এবং ৭. স্তনের ভেতরে গোটা ওঠা বা শক্ত হয়ে যাওয়া।

শ্রেণি বিভাগ : স্তন ক্যানসার বিভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম দ্বারা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই প্রতিটি প্রজনন প্রভাবিত করে এবং চিকিৎসা প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করতে পারে। স্তন ক্যানসারের বর্ণনাটি সর্বোত্তমভাবে এসব কারণগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

হিস্টোপ্যাথোলজি : স্তন ক্যানসার সাধারণত প্রাথমিকভাবে তার হিস্টোলজিক্যাল দ্বারা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। সর্বাধিক স্তন ক্যানসার ডাক্তস বা লোবিঊলস আচ্ছাদিত ইপেথেলিয়াম থেকে উদ্ভূত হয় এবং এই ক্যানসার ডাক্টাল বা লোবুলার কারসিনোমা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

ঝুঁকির কারণ : মহিলা, স্থূলতা, ব্যায়ামের অভাব, অ্যালকোহল, মেনোপেজের সময় হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি, কাইনফেল্টার সিনড্রোম, বাচ্চা না থাকা বা বেশি বয়সে বাচ্চা হওয়া, বয়স হওয়া ও পারিবারিক ইতিহাস। 

রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি : আল্টাসনোগ্রাফি, টিস্যু বায়োপসি ও ম্যামোগ্রাফি।

ব্রেস্ট স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাফি : ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সি নারীদের প্রতি তিন বছর পর পর ব্রেস্ট স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। ম্যামোগ্রাম হচ্ছে এক্স-রের মাধ্যমে নারীদের স্তনের অবস্থা পরীক্ষা করা। সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার এত ছোট থাকে যে, বাইরে থেকে সেটা বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে খুব ছোট থাকা অবস্থাতেই বা প্রাথমিক পর্যায়েই ক্যানসার নির্ণয় করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে। আর এই পরীক্ষার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে।

ঝুঁকির মাত্রা বেশি যাদের : ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। স্তন ক্যানসারে যতজন আক্রান্ত হন তাদের ৮০ ভাগেরই বয়স হচ্ছে ৫০-এর ওপর। সেই সাথে যাদের পরিবারে কারোর স্তন ক্যানসার রয়েছে তাদেরও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।

চিকিৎসা : অস্ত্রোপাচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, কম্বিনেশন থেরাপি।

লেখক : ডা. রতন লাল সাহা, কনসালন্টেট জেনারেল, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর।