রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো গতকাল শুক্রবার উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্ধার অভিযানে সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, কোস্টগার্ড ও নেভি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে নৌ-পুলিশের স্পিডবোটে মাইকিং করা হয়, কোনো মরদেহ দেখতে পেলে তাদের জানাতে। তবে ঘাট এলাকায় স্বজনদের খোঁজে কাউকে অপেক্ষায় দেখা যায়নি।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের ছয়জন এবং নৌবাহিনীর ছয়জন মিলে দুটি দলে মোট ১২ সদস্যের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ঘাট এলাকায় নিখোঁজ কারো খোঁজে কেউ আসেননি। তবে একজন নিখোঁজের সংবাদ আমরা পেয়েছি। পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত না যে, ওই ব্যক্তি ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন কি না। তারপরও আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
সোহেল রানা বলেন, আমরা স্পিডবোট নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছি, বাইরে কোথাও লাশ ভেসে গেছে কি না। যেহেতু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে, সেহেতু লাশ যদি থেকে থাকে সেগুলো ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছি।
এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি একজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। স্বজনরা দিনাজপুর থেকে রাজবাড়ী এলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

