স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাক্সক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মন্ত্রী গতকাল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমানের নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করব। সেখানে বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি তাদের খসড়া প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধিমোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানের যে পোশাক, এই পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং আমাদের আগের ঐতিহ্যম-িত যেকোনো একটি পোশাক বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যেন পায়, সে জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন দেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এমন এক ব্যাচ, যারা এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় কর্মজীবনে পদার্পণ করছেন। সুতরাং আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। রাষ্ট্রের এই রূপান্তরকালে আপনাদের নিজেদেরকে উপযোগী করে তুলতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধানের অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেই সময়ের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমান্বয়ে পুলিশ আজকের এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং পুলিশ জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু।
পরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয় এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।’ তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সাথে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে মোট ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ৭২ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে নারী ক্যাডার ৬ জন এবং পুরুষ ক্যাডার ৬৬ জন। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের আইজিপিসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন