× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:১৪ এএম

বিরোধী দলকে সুযোগ দিতে নারাজ বিএনপি

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:১৪ এএম

বিরোধী দলকে সুযোগ দিতে নারাজ বিএনপি

ফুরফুরে মেজাজে বিএনপি। দেড় দশকের বেশি সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা দলটি ক্লান্তিহীন সরকার পরিচালনার কাজে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা অফিস করছেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। কোনো কোনো দিন ১৬ ঘণ্টা অফিস করার রেকর্ড এখন তার খাতায়। শনিবার ছুটির ঘুমটা সরিয়ে অফিস করার পাশাপাশি গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও দুই বেলা সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের সংসদ সদস্যরা। যুক্তিতর্ক আর বিল পাস চলছে সমানতালে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি সরকারের প্রথম ছয় মাস থাকে হানিমুন পিরিয়ড। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই বিএনপি সরকারে। সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পুরোনো জঞ্জাল সরিয়ে নতুন করে দেশকে সাজিয়ে মানুষকে স্বস্তি দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশ সরকার যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই। কারণ তেলের দাম বাড়লে সব পণ্যের দাম বেড়ে যেত স্বাভাবিকভাবেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বিরোধী দল আন্দোলনের সুযোগই পাবে না।

নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে সরকার পার করেছে পৌনে দুই মাস। নতুন মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টা পরিষদ, সংসদীয় কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতাদের। ফলে তাদের বেশির ভাগ সময় কাটছে নিজ নিজ দপ্তরের কাজ সামলাতে। অথচ একটা সময় তাদের দিনের বেশির ভাগ সময় দলীয় কার্যালয় ও কর্মসূচি পালনে কাটত। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ডে এক ধরনের মন্থরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ, যা নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মনে চাপা অভিমান কাজ করছে। একই সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি না থাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে যেন ছুটির আমেজ বিরাজ করছে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকায় সেদিকেও ঝুঁকছেন কেউ কেউ। কাজের আশায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে দেখা যায় দলটির সংসদ সদস্যসহ মাঠের নেতাদের। এরই মধ্যে গতকাল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম দিনে প্রায় অর্ধসহস্র মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। আরো দুই দিনে এ সংখ্যা ছুঁয়ে যেতে পারে হাজারের ঘর। সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন বিক্রিকে কেন্দ্র করে বেশ সরগরম নয়াপল্টন।

এ ছাড়া বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে ‘নতুনত্ব’ আনার পাশাপাশি এগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে যোগ্য এবং তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন সংগঠনগুলোর এই সাংগঠনিক অভিভাবক।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, দল সরকারে আসার পর থেকে সেইভাবে সাংগঠনিক ব্যস্ততা নেই। দলেও কেমন যেন গুরুত্ব কমে গেছে ত্যাগীদের। এমনটা চলতে থাকলে সবাই পুরোপুরি ঝিমিয়ে পড়বে।

আগামী দিনে সংগঠনগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ছাত্রদলকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শিগগির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আবারও বৈঠক করা হবে।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের কমিটি দেওয়ার গুঞ্জন এখন রাজনীতির মাঠে। জানা গেছে, একটি খসড়া কমিটি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। যদিও ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি কিছুদিন সময় চেয়েছে, সারা দেশে ৩০টি কমিটির কাজ একসঙ্গে গুছিয়ে রেখেছে বলে। সেই ৩০টি কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলেও প্রচার আছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ নেতাদের তুলে এনে ছাত্রদলকে ভবিষ্যতের একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, সংগঠনের নানা বিষয়ে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কীভাবে সংগঠনকে গতিশীল করা যায়, ক্যাম্পাসগুলোয় কীভাবে আরও ভালো কাজ করা যায়Ñ এসব পরিকল্পনার কথা জানতে চেয়েছেন।

এদিকে দলের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে বিএনপিপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নজর রাখছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। যেখানে সরকারের সাফল্যে যেমন ভাগীদার হতে হবে, তেমনি দলকে শক্তিশালী রাখার ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে কয়েক মাসের মধ্যে সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো ভ্যানগার্ড সংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের পাশাপাশি সারা দেশে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার।

এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রদবদল। বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর দলটির হাল ধরা তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। গুঞ্জন রয়েছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অথবা স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারেন। যদি এমনটি হয়, তবে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তার দলীয় পদটিও শূন্য। সব মিলিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা স্থায়ী কমিটিতে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, ‘নবীন-প্রবীণ’ ফর্মুলায় একটি স্মার্ট ও আধুনিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনই এখন হাইকমান্ডের মূল লক্ষ্য। দলের কার্যক্রমে গতি আনতে চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। সম্প্রতি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেছেন। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালে।

জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার করা বিএনপির সামনেই রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল রেখে এই নির্বাচনে গেলে প্রতিপক্ষ দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। দীর্ঘ আন্দোলনে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন অথচ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, তাদের এবার সাংগঠনিক নেতৃত্বে এনে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। দলকে শক্তিশালী না করলে, আগামী দিনে রাজপথে বিরোধীপক্ষ সরকারকে কাবু করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত) রুহুল কবির রিজভী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকার গঠনের পর সরকার ও দল এক হয়ে গেছেÑ বিষয়টি ঠিক এমন নয়। দলের লোক বেশির ভাগই সরকারে চলে গেছেনÑ এটা যেমন সত্য, তেমনি দল পরিচালনার জন্যও আরো দক্ষ লোক আছে। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। গত ১৭ বছর যারা দেশটাকে লুটপাট করে খেয়ে ফোকলা করে দিয়েছে, আমাদের সরকার সেটা রিকভার করার চেষ্টা করছে। সরকারে ব্যস্ততা থাকলেও দল নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে এরই মধ্যে কথা বলেছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়েও দলের ভেতর কাজ চলছে। আপনারা তো জানেন, আওয়ামী লীগের নির্যাতনের কারণে বিএনপি সভা-সমাবেশই ঠিকমতো করতে পারেনি, কমিটি করবে কখন? এখন সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুনত্ব আনা হবে দলে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!