বিদেশি ব্যবস্থাপনায় নতুনরূপে যাত্রা শুরু করেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি)। এক দশকের বেশি সময় ধরে লোকসানে থাকা টার্মিনালটি জানুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময় দ্বিতীয়বার চালু করা হয়েছে। এটি চালু হওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেসরকারিভাবে চালুর পরে টার্মিনালটি আর্থিক ক্ষত কাটিয়ে উঠছে। সড়কপথে পণ্যের চাপ কমাতে এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যে সহায়তা দিকে মেডলগ টার্মিনালের সুবিধাগুলো বৃদ্ধি করেছে, যার ফল মিলছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিকস কোম্পানি মেডলগের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে যাত্রা শুরু করায় এবার লাভের মুখ দেখবে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মেডলগ বাংলাদেশের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তি করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই দিনে ঢাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এবং মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
সড়কপথে পণ্যের চাপ কমাতে ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এত দিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই এটি পরিচালনা করত। তবে অতিরিক্ত মাশুল, খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত লজিস্টিকস সাপোর্টের অভাবে টার্মিনালটির সক্ষমতার বেশির ভাগই অব্যবহৃত ছিল। প্রায় এক দশক ধরে এটি লোকসানের পরে বিদেশি কোম্পানির হস্তক্ষেপে মুনাফায় ফেরার আভাস দিচ্ছে। তবে এক যুগ আগে টার্মিনালের নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা এবং গত ১২ বছরের পরিচালন ব্যয় ১৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
মেডলগ টার্মিনালের সুবিধাগুলো বাড়াবে এবং বার্ষিক হ্যান্ডলিং ক্ষমতা এক লাখ ৬০ হাজার টিইইউয়ে উন্নীত করবে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন