ঈদুল আজহার এখনো প্রায় ৩৩ দিন বাকি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ বা ২৮ মে উদ্যাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে হাট বসানোর কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার ঢাকায় ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বসবে ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাট।
ডিএসসিসি প্রাথমিকভাবে ১৩টি হাট বসানোর পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু নানা কারণে সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। পরবর্তীকালে তারা ১১টি হাট চূড়ান্ত করে। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোবাশে^র হাসান গতকাল বুধবার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নানা কারণে সারুলিয়া ও আফতাবনগরে হাট বসানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই হাটের সংখ্যা কমে আসছেÑ এ সংখ্যা দশটিতেও নেমে আসতে পারে। তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এদিকে ডিএনসিসি আওতাধীন গাবতলীর অস্থায়ী হাটটিতে বছরজুড়েই পশু বেচাকেনা হয়। কিন্তু পরিবর্তিত নানা কারণে এবার অনেক অস্থায়ী হাট বসানো সম্ভব না-ও হতে পারে। ফলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে এবার প্রাথমিকভাবে ২৪টি হাট বসতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রতিবারের মতো এবারও গবাদি পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠবে হাটগুলো। সব হাটেরই প্রবেশমুখে নির্মিত হবে সুদৃশ্য তোড়ন। তবে এবার আলোকসজ্জা পরিহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ডিএসসিসির আওতাধীন যে ১১ অস্থায়ী হাট বসতে পারে সেগুলো হলোÑ পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গা, আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি, এইচ সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গা, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তার অব্যবহৃত জায়গা, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা, মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। হাটগুলো হচ্ছেÑ খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)-এর খালি জায়গা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইস গেট পর্যন্ত খালি জায়গা, কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমাননগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসবে। ঈদুল আজহার ঘোষিত দিনসহ পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনাবেচা হবে বলে জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। যদিও দেখা যায়, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই এসব হাটে পশু বেচাবিক্রি শুরু হয়ে যায়।
উত্তর সিটিতে হাটের ইজারামূল্য : উত্তর সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা (উত্তরা দিয়াবাড়ী হাট) এবং সর্বনি¤œ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা (পূর্ব হাজীপাড়া-ইকরা মাদ্রাসা সংলগ্ন হাট)। অন্যান্য হাটের ইজারামূল্য হলোÑ ভাটারা সুতিভোলা খাল সংলগ্ন হাট ৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, মোহাম্মদপুর বছিলা হাট ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা, মিরপুর সেকশন-৬ হাট ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৮ টাকা, খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন হাট ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন হাট ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন হাট ৯৩ লাখ ২২ হাজার ৩৩৪ টাকা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা সংলগ্ন হাট ৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠ হাট ৩০ লাখ টাকা, কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন হাট ১৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন হাটের মূল্য ১৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইজারা গ্রহণকারীরা ঈদের দিনসহ মোট ৫ দিন এসব হাটে কেনাবেচা করতে পারবেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ৩ ধাপে দরপত্রের শিডিউল বিক্রি ও জমা নেওয়া হবে। ইজারাদারকে দরের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ হারে পরিচ্ছন্নতা ফি দিতে হবে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন