বরিশাল শহর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ শিশু সৌরভ দাসকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের চার দিনের মাথায় গতকাল বুধবার সকালে তাকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। কিছুটা বিলম্বে হলেও সন্তানের উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে সৌরভের মা-বাবাসহ পরিবারটিতে।
গত শনিবার রাতে শহরের ভাটিখানা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ। তার মায়ের তথ্য অনুসারে, সে খিচুড়ি আনতে গিয়েছিল। এরপর তার পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সৌরভের সন্ধান পায়নি। পরে গত রোববার কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
এদিকে সৌরভের বাসা থেকে বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলো একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে শিশুটিকে।
পরিবারের অনুমান ছিল, সৌরভকে কেউ বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তারা মুক্তিপণও দাবি করতে পারে। এ জন্য তার বাবা-মা প্রস্তুতও ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বরিশাল শহর থেকে সৌরভ কীভাবে কক্সবাজারে গেল বা তাকে কারা নিয়ে গেছে, তা এখনো রহস্যাবৃত। ভুক্তভোগী শিশুটির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সৌরভ মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বিকাশ থেকে টাকা তুলে খাবার অর্ডার করেছিল। বাড়িতে ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তার কাছে একটি কাগজে লেখা ঠিকানা দেখিয়ে কিছু জানতে চায়। এরপর তার আর কিছু মনে নেই।
এ বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে প্রথমে অচেতন করা হয়। পরে তাকে নির্ধারিত কোনো গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার কর্মকর্তা এ টি এম শিফাতুল মজুমদার রূপালী বাংলাদেশকে মোবাইল ফোনে জানান, বুধবার সকালে স্থানীয়রা ঈদগাঁও এলাকার ব্রিজের নিচে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরক্ষণে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার বাড়ি বরিশালে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এরই মধ্যে বরিশালের কাউনিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের কক্সবাজারে আসতে বলা হয়েছে। পুলিশ ও স্বজনরা পৌঁছানোর পর সৌরভকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কাউনিয়া থানা পুলিশের সন্জিত চন্দ্র নাথ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, শিশুটিকে আনতে তাদের থানা থেকে পুলিশ কক্সবাজারে গেছে। সৌরভের সঙ্গে কী হয়েছেÑ সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে শিশুটিকে আনার পর তার বক্তব্য শুনলে পুরো ঘটনা বোঝা যাবে।

