ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাগেরহাটে জামায়াত নেতা ও যশোরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

বাগেরহাট ও যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

বাগেরহাটে জামায়াত নেতা এবং যশোরে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এবং গত বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনা দুটি ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতা মুজাহিদ মোল্লা (৪০) চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের সরোয়ার জাহান মোল্লার ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর হিজলা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। অন্যদিকে নিহত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান (৬৭) সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তবে ব্যবসার কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বাস করতেন তিনি। নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন আনিছুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৭টার দিকে বাড়ির সামনে দোকানে বসা ছিলেন মুজাহিদ মোল্লা। এ সময় স্থানীয় বাইজিদ ইজারাদার নামে এক ব্যক্তি তার দোকান থেকে জুস কেনেন। সেই জুস হাতে নিয়ে তিনি মুজাহিদকে বলেন, ‘এটা ভালো না।’ এ সময় মুজাহিদ জুসটি খেয়ে তাকে জানান, ‘এটা খারাপ না।’ এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে বাইজিদ তার হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে মুজাহিদের গলায় কোপ দেয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হিজলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সোহেল শেখ বলেন, এই হত্যার পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সঠিক বিচার দাবি করছি। চিতলমারী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বাইজিদ ইজাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে নিহত আনিছুর রহমানের ব্যক্তিগত ম্যানেজার রেজাউল করিম ও স্যানিটারি মিস্ত্রি আলমগীর কবীর বলেন, ‘বুধবার মাগরিবের নামাজের আগে আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে স্যারের সঙ্গে আমরা দুজন কথা বলছিলাম। এ সময় পীরবাড়ির সন্তান শাহ্ মাহমুদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন যুবক আমাদের কাছে আসে এবং আনিছুর রহমানকে মার্কেটের ঘর তার কাছে কেন ভাড়া দেওয়া হবে নাÑ এমন প্রশ্ন করে শাহ্ মাহমুদ গালাগাল শুরু করেন।’

একপর্যায়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখম-লে আঘাত করে পালিয়ে যান তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

অভয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে আনিছুর রহমানের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।