ঢাকাসহ সারা দেশের অনেকে মোটরবাইক চালিয়ে আয় করছেন। দেশজুড়ে চলা এসব মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের কথা ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালকদের মধ্যে যার মোটরবাইক ১১০ সিসির বেশি তারা বিত্তবান। এ শ্রেণির মালিকদের আয়করের আওতায় আনতে অর্থমন্ত্রীর কাছে গত সোমবার একটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, প্রস্তাবনার সূত্র ধরে অগ্রিম আয়কর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়ে উঠেছেন চালকরা। তারা দুই বছরের ট্যাক্স টোকেনের বাইরে অতিরিক্ত আয়কর দিতে নারাজ। যাদের অধিকাংশই ১১০ সিসি বা তার নিচের মোটরবাইকের মালিক।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উচ্চ গতির বিত্তবান মোটর বাইকারদের করজালে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় সরকার। একইসঙ্গে দেশে ‘বাংলা টেসলা’ হিসেবে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্রমবর্ধমান বহরকেও এআইটি’র আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে এনবিআর।
এনবিআরের একজন সদস্য বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। যা মূলত কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা। উচ্চ সিসি বা অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যেগুলোর মালিক সাধারণত বিত্তবান শ্রেণির হয়ে থাকেন।’
এনবিআর জানিয়েছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলগুলো নতুন এই অগ্রিম আয়করের আওতামুক্ত থাকতে পারে। ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক কর ২ হাজার টাকা হতে পারে। এ ছাড়া ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির বাইক মালিকদের বছরে ৫ হাজার এবং ১৬৫ সিসির ওপরের বাইকগুলোর জন্য বার্ষিক ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। এদিকে, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরে ৫ হাজার এআইটি দিতে হতে পারে। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় চলাচলকারী যানের জন্য ১ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকার গুলশানে বাইকচালক শরিফুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটা পেশা হিসেবে ভালো নয়। এখানে আয়ের চেয়ে ঝুঁকি বেশি। তবুও করতে হয়, বাঁচতে হবে।’
বর্তমানে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফির সঙ্গে রোড ট্যাক্স পরিশোধ করেন মালিকরা। কম গতিসম্পন্ন গাড়ির মালিক হিসেবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মোটরসাইকেলের (বাইক) ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি ২ বছরের জন্য করা হয়। ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি (১৫০ সিসির কম) ২ বছরের জন্য সাধারণত ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তবে এর অতিরিক্ত কোন অর্থ বা কর দিতে নারাজ তিনি।
বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি-র সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারেও বেশি। পূর্ণ আকারের বা বিলাসবহুল এসইউভিগুলোর ইঞ্জিন সক্ষমতা সাধারণত ২ হাজার ৫০০ সিসি থেকে ৪ হাজার সিসির বেশি হয়ে থাকে।
২০২৫ সালে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) এক তদন্তে দেখা গেছে, ৩ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তত ৫ হাজার ২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ি বিআরটিএ-তে নিবন্ধিত রয়েছে। বাইক ছাড়া অন্যান্য মোটরযানের ক্ষেত্রে ইঞ্জিন ক্ষমতা অনুযায়ী বার্ষিক ট্যাক্সের হার বর্তমানে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
এনবিআরের সূত্র জানিয়েছে, মূলত করের আওতা এবং কর পরিপালন (কমপ্ল্যায়েন্স) বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও করদাতারা বছরের শেষে যখন আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তখন তা সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৪৮ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে।

