ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তনু হত্যা মামলা

পোশাকে আরও একজনের রক্তের নমুনা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৫:৪১ এএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আরও তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এবার ডিএনএ নমুনায় পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে পিবিআই। গত রোববার রাতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে তিন পুরুষের শুক্রাণুর তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের আলামত পাওয়ার তথ্য ডিএনএ ল্যাব থেকে আমাদের দেওয়া হয়েছে।’

পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করা হয়। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন ঢাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশের ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে নিহত তনুর কালো, লাল ও হলুদ প্রিন্টের কামিজ, বেগুনি রঙের ওড়না, কালো রঙের সালোয়ার, লাল ও হালকা বেগুনি রঙের অন্তর্বাস, চারটি দাঁত, ভ্যাজাইনাল সোয়াব, ৫ ফুট ও ১০ ফুট লম্বা খাকি ও হলুদ টেপ, পুরুষের একজোড়া ছেঁড়া জুতা, বলপেন ও এক টুকরো কাপড় ছিল। বাকি ১৩টি নমুনা ছিল সন্দেহভাজন ১৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল।

নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়না, সালোয়ার ও আন্ডারওয়্যারে মানুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সালোয়ার, ওড়না ও আন্ডারওয়্যারে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে এই ডিএনএ প্রোফাইলের মিল নেই।

এদিকে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্ত রিপোর্ট পাওয়ায় মামলার তদন্তে আরও অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মামলাটির তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সব কিছু এখনই বলার সময় আসেনি। এখন নতুন করে আরও একজনের রক্ত পাওয়ায় সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আরও ৩ জনের ডিএনএ ম্যাচ করাতে হবে। ইতিপূর্বে একজনের (হাফিজুর) ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।

তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম।