× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
মাদারীপুরে ৩ লাশ উদ্ধার

ঋণের কারণে মানসিক বিপর্যয়ে স্ত্রী-শিশু হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

ঋণের কারণে মানসিক  বিপর্যয়ে স্ত্রী-শিশু হত্যার  পর স্বামীর আত্মহত্যা

মাদারীপুরে একটি বাসা থেকে এক দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ঋণের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে স্বামী প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার যতীন শিকদারের ছেলে চিন্ময় শিকদার (২৮), তার স্ত্রী ইশা শিকদার ওরফে ইশরাত জাহান (২২) এবং তাদের আট মাস বয়সি মেয়ে জেনি।

চিন্ময়ের বাবা যতীন শিকদারকে ইতালিপ্রবাসী বলা হলেও পুলিশ তা ভুয়া বলে দাবি করেছে। পুলিশের ভাষ্য, যতীন শিকদার পেশায় ওঝা এবং একটি অপহরণ মামলার পলাতক আসামি। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিষ্টি শিকদার ওরফে মিষ্টি আক্তার (২৪) তিন বছর ধরে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে চিন্ময় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সৎমা মিষ্টির ভাড়া বাসায় ওঠেন। পরে সন্ধ্যায় মিষ্টি বাজার করতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি ফিরে এসে চিন্ময় ও তার স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন। দুই ঘণ্টার বেশি সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। রাত ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় চিন্ময় ও তার শিশুকন্যাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার স্ত্রী ইশাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা প্রাথমিকভাবে রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। প্রথমে চিন্ময় তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। কারণ, চিন্ময় তার স্ত্রীকে নিয়ে খুবই ডিপ্রেশনে ছিল। তার ফোনে আমরা কিছু কনভারসেশন দেখেছি। তার স্ত্রীর পেছনে চিন্ময় ১৪ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তারপর তার স্ত্রী আইসিইউতেও ছিলেন। চিন্ময় কিছুই করতেন না। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েই তিনি সংসার চালাতেন। এখানে চিন্ময়ের স্ত্রী ইশা এবং তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী মিষ্টি দুজনই ধর্মান্তিত হয়েছেন। এ কারণে পরিবার তাদের ত্যাজ্য করেছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মিষ্টির সংসার চালাতে টাকা-পয়সা দরকার হলে তিনি তার স্বামীর বড় ছেলে চিন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। চিন্ময় তার স্ত্রীকে নিয়েই খুব ঝামেলার মধ্যে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিল কিছু রোগে ভুগছিলেন। গত বুধবার তারা ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে মাদারীপুরে আসেন। চিন্ময় নিজেও তার বাবা ও ছোট ভাই জয়ের সঙ্গে একটি অপহরণ মামলার আসামি। তাই তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন না।

পুলিশ জানায়, ইশা শিকদার তিন বছর আগে ধর্মান্তরিত হন। তার আগের নাম ছিল ইশরাত জাহান। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার এরশাদ মিয়া ও শিউলি বেগম দম্পতির মেয়ে। চিন্ময়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। অন্যদিকে মিষ্টি শিকদারও ধর্মান্তরিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার বাবার বাড়ি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজিবাকাই ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিন্ময়ের সৎমা মিষ্টিকে আটক করেছে পুলিশ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!