বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, এবারের ঈদে যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, আনসার এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ২৪ ঘণ্টা এই বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। উৎসবের এই সময়ে নদীপথে যাত্রী পরিবহনের বিশাল চাপের কথা মাথায় রেখে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে লঞ্চে ওঠা বা নামা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লঞ্চের ভেতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তা তদারকি করা হচ্ছে। শুধু সদরঘাটেই নয়, বরং সদরঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত সমগ্র রুটেই কোস্ট গার্ডের পেট্রল বা টহলদল এবং বিভিন্ন স্টেশন ও আউটপোস্ট সক্রিয় রয়েছে।
আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুবাহী ট্রলার বা লঞ্চের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি পশু পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে লঞ্চ মালিক ও চালকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং বৈরী আবহাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক আরও বলেন, সদরঘাটে বা মাঝনদীতে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিজি জানান, টহলদলগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা না করতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন