আধ্যাত্মিক ও পর্যটননগরী সিলেট এখন ক্রমেই অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে নগরী ও আশপাশে ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই থেকে শুরু করে নৃশংস হত্যাকা-ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
চলতি বছর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ২২ মে। সেদিন নগরীর ক্বিন ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারী বাপ্পির ছুরিকাঘাতে নিহত হন র্যাব-৯-এর সদস্য ইমন আচার্য্য। পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি থানা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাপ্পি পালানোর সময় ইমন আচার্য্য তাকে আটকাতে যান। সে সময় বাপ্পি ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত ইমনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে একটি শিশুকে জিম্মি করে পালানোর সময় বাপ্পিকে রক্তমাখা ছুরিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্প্রতি জিন্দাবাজারে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হন। দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় ঢাকাগামী এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে লুট করা হয়। গত এক মাসে সুরমা নদী ও বিভিন্ন নির্জন এলাকা থেকে একাধিক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিশেষ করে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীরা বেশি ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং এবং দুর্বল নৈশ টহলের কারণে নগরীতে অপরাধ বাড়ছে। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের টাকার জোগান দিতে অনেক তরুণ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে।
ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম বলেন, আগে গভীর রাতেও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করা যেত, এখন এশার নামাজের পর বের হতেও ভয় লাগে। প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে; অনেকে সন্তানদের একা কোচিংয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
ইমন আচার্য্য হত্যার পর সিলেট মহানগর ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে গতকাল রোববার পর্যন্ত চিহ্নিত ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ২৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ছিনতাই-মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে সিলেটকে আগের শান্ত পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে।

