সিলেট বিভাগে দিন দিন বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগের প্রকোপ ও ভয়াবহতা। পরিস্থিতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তদের ভিড়। আতঙ্কের বিষয় হলো, শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ১৭ মাস বয়সি শিশু এবং অন্যজন ২২ বছর বয়সি এক তরুণী নার্স। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া ১৭ মাস বয়সি শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়। সে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এদিকে একই রকম উপসর্গে শিশুদের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল সকালে সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সি এক ইন্টার্ন মিডওয়াইফ (নার্স) মারা যান। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। তীব্র হামের উপসর্গ নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জন। এর মধ্যে জেলাভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৮৬ জন, সিলেট জেলায় ৪২ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন।
অবশ্য চিকিৎসকদের মতে, ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া রোগীর চেয়ে উপসর্গধারী রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ২৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিলেটে হাম ও উপসর্গে মারা যাওয়া ৬২ জনের মধ্যে সরাসরি ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয় ৪ জনের। বাকি ৫৮ জন মারা গেছেন হামের তীব্র উপসর্গ এবং এর পরবর্তী নানা শারীরিক জটিলতায়; যেমনÑ তীব্র নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট।
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই যথাসময়ে হামের টিকা (এমআর ভ্যাকসিন) নেয়নি অথবা পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়তি শয্যার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সকলকে সতর্ক করে দিয়ে শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ।

