শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রযাত্রার ‘নিউক্লিয়াস’ বিবেচনা করে আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে শিক্ষা খাতের তিন বিভাগের জন্য ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই অর্থবছরে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯২ টাকা। এই খাতে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ২৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই বিভাগের পরিচালন ব্যয় ৩২ হাজার ৮৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। এই খাতে পরিচালন ব্যয় ১১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া, বাজেট বক্তৃতায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা যেমনÑ জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেই সব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা প্রদানের কথাও বাজেটে বলা হয়।
এ ছাড়া, মেয়েদের জন্য বিনা মূল্যে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি এবং শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হবে।
ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রযুক্তি ও এআই-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

