আমরা প্রতিদিন কী খাব আর কতটা খাব, সেটা কেবল আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, বরং আমাদের চোখ, কান, নাক ও স্পর্শের মতো ইন্দ্রিয়গুলো অবচেতনভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ফুড সায়েন্সের গবেষক চার্লস স্পেন্সের মতে, স্বাদের অনুভূতি কেবল মুখে নয়, বরং এটি মানুষের মস্তিষ্কের একটি বহুমাত্রিক খেলা। কোনো খাবার মুখে দেওয়ার আগেই আমাদের মস্তিষ্ক তার রূপ ও গন্ধ দেখে একটি ধারণা তৈরি করে ফেলে। আর এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়েই আমরা নিজেদের অজান্তে পুষ্টিকর ও নিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।
মানুষ সাধারণত বাদামি, সবুজ বা সাদা রঙের মোড়ককে স্বাস্থ্যকর মনে করে, আর লাল বা হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙের প্যাকেটকে সুস্বাদু ভাবে। এই রঙের ফাঁদ থেকে বাঁচতে ঘরে থাকা চিপস বা বিস্কুটের উজ্জ্বল প্যাকেটগুলো চোখের আড়ালে কোনো অস্বচ্ছ পাত্রে লুকিয়ে রাখা উচিত, যাতে হুটহাট অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা না জাগে। পাশাপাশি সুপার মার্কেটের কাউন্টারে সাজিয়ে রাখা চকোলেট বা চিপসের লোভনীয় তাকগুলো এড়িয়ে নিচের বা উপরের কম দৃশ্যমান তাকগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত, যেখানে সাধারণত স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো থাকে।
খাবার পরিবেশনের পাত্রটি কতটা ভারী, তার ওপর নির্ভর করে পেট ভরার অনুভূতি। ভারী পাত্রে খাবার খেলে মানুষ সেটি মুখে দেওয়ার আগেই মনে মনে ধরে নেয় যে, খাবারটি তৃপ্তিদায়ক হবে এবং এর ফলে দ্রুত পেট ভরে। শুধু তাই নয়, থালায় যদি বিভিন্ন রঙের শাকসবজি সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়, তবে তা সাধারণ ও কম ক্যালরির খাবারকেও মস্তিষ্কের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু করে তোলে।
খাওয়ার সময় ধীরগতির ও শান্ত সুরের সংগীত শুনলে মানুষ ধীরে ধীরে চিবিয়ে খায়, যা কম ক্যালরি গ্রহণে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘সনিক সিজনিং’। অন্যদিকে, খাওয়ার সময় টেলিভিশন বা মোবাইল ফোনের মতো মনোযোগ বিঘœকারী যন্ত্র থেকে দূরে থাকলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
মানুষ মূলত খাবারের ভেতরের ক্যালরি মেপে খায় না, বরং থালার খাবারের পরিমাণ দেখে। তাই খাবারের মূল উপাদানের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে সেখানে ফুলকপি বা পালংশাকের মতো পুষ্টিকর সবজি মিশিয়ে দিলে খাবারের স্বাদ ও পরিমাণ একই থাকে। ফলে মস্তিষ্ক টের পাওয়ার আগেই শরীর কম ক্যালরি গ্রহণ করে এবং পেটও পুরোপুরি ভরে যায়। ইন্দ্রিয়ের এই স্বভাবগুলোকে একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিবর্তন করে আমরা খুব সহজেই সুস্থ জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন