দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে সমাজের পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নতুন সুবিধা : বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করে স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা, দুরারোগ্য রোগীদের অনুদান বৃদ্ধি : অর্থমন্ত্রী জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এককালীন অনুদান ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে বাড়তি সুবিধা : বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসরের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্তের কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হলেও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত : বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে।

