ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম

হরমুজ প্রণালি ফের পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে দাবি, বাণিজ্যিক এই জলপথ খোলা আছে এবং জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এদিকে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক হামলায় বিশ^ জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ।

গত বুধবার রাতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানায় সংস্থাটি।

এ বিষয়ে এক্সে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি এক পোস্টে জানায়, মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং গত রাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি। একই সঙ্গে ‘যাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধারণ এবং পিজিএসের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে’ বলা হয় ওই পোস্টে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ শাখার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তবে ইরান পুরো অঞ্চলকে তাদের জন্য ‘নরকে পরিণত করবে’। একই সময়ে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার দাবি করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, তার দেশ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি দাবি করেন, চাপ ও সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নিজের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড় থাকবে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ^ জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে বিঘœ ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ওমানে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নিহত : ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ক্রমবর্ধমান পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।