সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে নেমেছিল ঝুমবৃষ্টি। তীব্র গরমে স্বস্তির পরশ। তবে এই স্বস্তির সঙ্গে দুর্ভোগও ভর করেছিল নগরবাসীর কপালে। টানা বৃষ্টিতে মহানগরীর অনেক সড়কের জমে যায় পানি। এতে ছুটি উদযাপনে যারা ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন, তাদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
তথ্য অনুসারে, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ঘণ্টা তিনেকের বৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ও জাহাঙ্গীর গেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলজট। এই সময়ে রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিন সকাল থেকে আকাশে মেঘের দেখা পাওয়া না গেলেও দুপুরের পর জমতে থাকে কালো মেঘ। বিকেলে শুরু হওয়া টানা প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় জলজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। তবে দুর্ভোগের এই চিত্রের মধ্যেও কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে খেলায় মেতে ওঠে শিশুরা। ফলে একই সঙ্গে নগরজীবনের ভোগান্তি ও শিশুদের উচ্ছ্বাসের ভিন্ন দুই দৃশ্য ফুটে ওঠে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃষ্টির পর তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। সকালের ঘাম ঝরানো রোদ দেখে ছাতা নিয়ে বের না হওয়ায় প্রবল বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়েন অনেক নগরবাসী। অবশ্য গতকালের আবহাওয়া পূর্বাভাসে রাজধানীতে বৃষ্টির কথা বলা হয়েছিল। তবে এতটা বৃষ্টি হবে, তা বোঝা যায়নি। মৌসুমি বায়ু দেরিতে এলেও এরই মধ্যে দেশের প্রায় সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এ বায়ুর আরও সক্রিয় হতে সময় লাগবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা চলবে কয়েক দিন। তথ্য অনুসারে, গতকাল দেশের চার বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টানা কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর জ্যৈষ্ঠের শেষ সময়ে এসে বৃষ্টিপাত বর্ষার জানান দিচ্ছে। পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ় আসতে দুদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে দেশের সর্বত্র দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটেছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কোথাও কোথাও স্বল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভারী বর্ষণ এখনো শুরু হয়নি। ধীরে ধীরে বর্ষার বৃষ্টি বাড়বে। আজ শনিবার রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে একটানা বা বর্ষার বৃষ্টি বলতে যা বোঝায়, তা হতে আরও কয়েকদিন লাগতে পারে।
নাজমুল ইসলাম আরও জানান, বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা এই সময়ে রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গেছে। কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। দুপুরের দিকে যখন প্রচ- রোদ ছিল, তখন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার বৃষ্টির পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে। শনিবারের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন