ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা থাকে আকাশছোঁয়া। প্রিয় দলের ম্যাচ কোনোভাবেই মিস করতে চান না সমর্থকেরা। তবে বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন ম্যাচগুলো গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন সকালেই ছুটতে হয় অফিসে। একদিকে খেলার উত্তেজনা, অন্যদিকে পেশাগত দায়িত্বÑ এ দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা অনেকের জন্যই বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে খেলার আনন্দও যেমন ষোলো আনা উপভোগ করা সম্ভব, তেমনি অফিস-আদালতেও থাকা যায় একদম চনমনে ও স্বাভাবিক।
রাত জাগার ক্লান্তি কাটাতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের পর্দা খুলে দিন এবং শরীরে প্রাকৃতিক আলো লাগতে দিন। সূর্যের আলো শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লককে সচল করে দ্রুত ঘুমভাব কাটিয়ে দেয়। এ ছাড়া অফিসে কাজের ফাঁকে দুপুরে ১৫-২০ মিনিটের একটি ছোট্ট পাওয়ার ন্যাপ বা বিশ্রাম নিতে পারলে মস্তিষ্ক রিফ্রেশ হয় এবং বিকেলের কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়।
মনে রাখতে হবে, বিশ^কাপ চলাকালে প্রায় প্রতিদিনই রাত জেগে সব ম্যাচ দেখার চেষ্টা করা সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। এতে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পরদিন কাজের পারফরম্যান্স মারাত্মকভাবে কমে যায়। তাই আগে থেকেই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিকল্পনা করে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বেছে নেওয়া উচিত। নিজের প্রিয় দল, বড় কোনো রাইভালরি বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো দেখার তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনে রাত জাগা এড়ানো যায় এবং শরীরও নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি ম্যাচ দেখার রাতের খাবারটি হালকা রাখা ভীষণ জরুরি। ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং শরীরে একধরনের অস্বস্তি ও ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়। এর বদলে স্যুপ, সালাদ বা হালকা কোনো খাবার শরীরকে সতেজ রাখে এবং দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে সাহায্য করে।
অনেকেই আবার রাত জাগার ক্লান্তি দূর করতে একের পর এক চা বা কফি পানের ভুলটি করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ঘুম তাড়ালেও অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে পরদিন সকালে মাথা ভারী হওয়া, অবসাদ এবং মনোযোগহীনতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই ক্যাফেইনের পরিমাণ সীমিত রেখে বরং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, যা শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড ও চনমনে রাখে। খেলা দেখার সময় টানা এক জায়গায় বসে না থেকে হাফটাইম বা বিরতির সময়গুলোতে কিছুক্ষণ ঘরের ভেতর হেঁটে নেওয়া কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করা ভালো। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং অলসতা দূর হয়।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিশ্বকাপের উত্তেজনায় ভেসে টানা কয়েক দিন রাত জাগা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। একটানা কম ঘুম হলে মানুষের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা দুটোই কমে। তাই ফুটবলের আসল আনন্দ সুস্থ শরীরে উপভোগ করতে হলে একটু পূর্বপরিকল্পনা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে কাজের সঙ্গে ঘুমের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন