বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠত এবং সমাজে এত নেতিবাচকতা তৈরি হতো না।
গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণমাধ্যম ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শিরোনামের এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের স্বার্থে সবাইকে জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে জিয়ার আদর্শ ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত করতে হবে। এখনই সুযোগ এসেছে আবার জিয়াকে গভীরভাবে স্মরণ করার।
গণমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তাকে অবহিত করা দরকার। একই সঙ্গে চাটুকারিতার সংস্কৃতি থেকে গণমাধ্যমকে টেনে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করে। দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে শহিদ জিয়ার ক্রমাগত দেশপ্রেম মানুষকে বারবার প্রভাবিত করেছে। জিয়াউর রহমান সব সময় ভিন্নমতকে সম্মান করতেন এবং বহুমাত্রিক ভাবনা নিয়েই এগিয়ে যেতেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রে সঠিক ও মুক্ত গণমাধ্যম ধারা প্রতিষ্ঠিত করা না গেলে সঠিক রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া যায় না। স্বাধীন গণমাধ্যম হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। শহীদ জিয়ার জন্ম না হলে গণমাধ্যমকে আবারও মুক্ত আলোতে আনা যেত কি না, তা এখনো প্রশ্ন রাখে।”
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে গণমাধ্যমকে যে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সংবাদপত্রকে আলোর পথে এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাই দেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

