পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আলোচিত ‘কালো মানিক’ নামের গরুর মালিক সোহাগ মৃধা (৩৫) অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা এই ব্যক্তি এবার অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে গর্ভপাত ঘটানো ও পর্নোগ্রাফিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন।
গতকাল রোববার মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। সোহাগ মৃধা উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সোহাগ মৃধা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় শাহরিয়ার আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার স্ত্রী ও ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বোন মাহিনুর বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন অভিযুক্তরা। এতে মাহিনুর বেগমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং পরে তার গর্ভপাত ঘটে। এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আহতদের প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করলে পুলিশ গতকাল দুপুরে প্রধান আসামি সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের পিসিপিআর যাচাই করে দেখা গেছে, সোহাগ মৃধা কেবল একজন গরু ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই ও চুরিসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও চলতি সপ্তাহের মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘কালো মানিক’ নামের প্রায় ৪৪ মণ ওজনের একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সোহাগ মৃধা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে সেই গরুটি ঈদুল আজহার বাজারে ২২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেগম খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেওয়ার বিষয়টি ছিল তার একটি কৌশল বা নাটক মাত্র। এর আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে আসছিলেন। আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই তিনি মাঝেমধ্যে এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকা-ে লিপ্ত হতেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

