ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পশ্চিম ঘনশ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। মাত্র একজন শিক্ষকের কাঁধে বিদ্যালয়ের পুরো পাঠদান কার্যক্রমের ভার। নেই কার্যকর তদারকি। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক অধিকার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, চারটি কক্ষের একটিতে অফিস কার্যক্রম চলছে। বাকি তিনটি কক্ষের মধ্যে দুটিতে পাঠদান চলছে। একটি কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী এবং অন্যটিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২ জন শিক্ষার্থী মিলে পাঠ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের এই পুরো পাঠদান প্রক্রিয়া সামলাচ্ছেন মাত্র একজন শিক্ষক।
পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গতকাল বিদ্যালয়ে মাত্র দুটি ক্লাস হয়েছে। তারা জানায়, এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তাদের কয়েক দিন পার করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু তালেব জুয়েল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে মোট তিনজন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে একজন শিক্ষিকা ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে আছেন। অপরজন উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে একাই সব ক্লাসের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির অভাবে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন শিক্ষকের পক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালানো প্রায় অসম্ভব। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. মোকাদ্দেস ইবনে সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়েই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন, যার একজন বর্তমানে শিক্ষা অফিসে কাজ করছেন। একজন শিক্ষক দিয়ে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান কীভাবে সম্ভবÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না দিয়ে ক্লাস্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

