এবারের উইমেনস টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে তিনটি ম্যাচ জিততে চাওয়ার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, প্রথমটি জিতে সেই পথে এগিয়ে গেলেন তারা। রান তাড়ায় শুরুর জুটিতে সুর বেঁধে দিলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তার। এরপর ছোট্ট একটি ব্যাটিং ধস। তবে দলকে পথ হারাতে দিলেন না শারমিন আক্তার সুপ্তা ও স্বর্ণা আক্তার। দারুণ জয়ে বিশ^কাপে শুভসূচনা করল বাংলাদেশ। এবারের উইমেনস টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
এই নিয়ে সাতটি টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে অংশ নিয়ে ২৬ ম্যাচে বাংলাদেশের চতুর্থ জয় এটি। বার্মিংহামে রোববার ২০ ওভারে নেদারল্যান্ডস করে ১৩৯ রান। বাংলাদেশ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পাঁচ বল হাতে রেখে। নিজের প্রথম বিশ^কাপ ম্যাচে সাত চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা ওপেনার জুয়াইরিয়া।
দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা বলেছিলেন, এবারের বিশ^কাপে তিনটি ম্যাচ জিততে চান তারা। প্রথমটি জিতে সেই পথে এগিয়ে গেলেন তারা।
বিশ^কাপের আগে স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ছয় ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিততে পেরেছিল কেবল দুটি, যার একটি ছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ডাচদের আরেকবার হারিয়েই বিশ^মঞ্চে যাত্রা শুরু হলো নিগারদের।
রান তাড়ায় জুয়াইরিয়ার ব্যাটে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পান তিনি। ৭ রানে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। তবে তৃতীয় আম্পায়ার ‘নট আউট’ ঘোষণা করেন ফিল্ডারের আঙুল মাটি স্পর্শ করেছিল বলে।
১৮ রানে তার একটি ক্যাচও ফেলেন ফিল্ডার। জীবন পেয়ে পরের দুই বলে টানা দুটি চার মারেন ২০ বছর বয়সি এ ব্যাটার।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ করে বিনা উইকেটে ৪৬ রান। পরের ওভারে পরপর চার ও ছক্কা মারেন জুয়াইরিয়া। অষ্টম ওভারে আরেকটি ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি ৩২ বলে। পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি।
৬৭ রানের জুটি থামার পরের বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান নিগার। একটু পর বোল্ড হন দিলারাও (২৩ বলে ২৬)। পরের ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন সোবহানা মোস্তারি। বিনা উইকেটে ৬৭ থেকে দ্বাদশ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৮৫। বেশ চাপে তখন তারা।
তবে সেই চাপ জেঁকে বসতে দেননি শারমিন ও স্বর্ণা। ২৯ বলের মধ্যে প্রথম বাউন্ডারি আসে শারমিনের ব্যাটে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছে দেন তারা।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩ রান। প্রথম বলেই চার মেরে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন স্বর্ণা। ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে একটি চারে ১৭ বলে ১৮ রান করেন তিনি। চারটি চারে ৩২ বলে ৩৭ রান করেন শারমিন।
এজবাস্টনে এ দিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ডাচ শিবিরে আঘাত হানেন মারুফা আক্তার। পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ সাফল্য পায় আরেকটি। হিদার শিহারকে ফিরিয়ে দেন ফারিহা তৃষ্ণা।
পাওয়ার প্লেতে নেদারল্যান্ডস করে ২ উইকেটে ৪০ রান। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রাবেয়া খান।
নিয়মিতই উইকেট হারায় ডাচরা। তিনে নেমে দলকে বলতে গেলে একাই টানেন অধিনায়ক ডে লেডে। পাঁচ চারে ৪৫ বলে ৭৩ রান করেন তিনি। তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর ১৬।
বাংলাদেশের হয়ে পাঁচজন হাত ঘুরিয়ে আঁটসাঁট বোলিংয়ে উইকেটের দেখা পান সবাই। ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার পেসার মারুফা। আগামী বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে লিডসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নেদারল্যান্ডস : ২০ ওভারে ১৩৯/৮ (হিদার শিহার ১৬, মলকেনবুর ১১, ডে লেডে ৫০, ক্যালিস ৪, রাইকা ১৩, সানায়া ১, ওভারডাইক ৯, স্ফিলিং ১৩*, ডে ল্যাঙ্গে ১, সিলভার শিহার ১০*; তৃষ্ণা ৪-০-৩২-১, মারুফা ৪-০-৩১-২, মেঘলা ৪-০-২৯-১, রাবেয়া ৪-০-১৭-১, রিতু ৪-০-১৭-১)
বাংলাদেশ : ১৯.১ ওভারে ১৪১/৪ (জুয়াইরিয়া ৫০, দিলারা ২৬, নিগার ০, সোবহানা ৪, শারমিন ৩৭*, স্বর্ণা ১৮*; স্ফিলিং ৩.১-০-২৪-০, হিদার শিহার ৪-০-২৫-০, রাইকা ১-০-৯-০, সিলভার শিহার ৩-০-২৪-১, ইসাবেল ২-০-২০-০, ডে ল্যাঙ্গে ৪-০-২৭-২, ওভারডাইক ২-০-১১-০)
ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ : জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।

