জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক থাকার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা ‘বগলদাবা’ বিরোধী দলও হবেন না, আবার ‘জনস্বার্থবিরোধী’ আচরণও করবেন না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হব না, আবার সংসদের ভেতরে এমন আচরণও করব না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণœ হয়।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জনগণ আমাদের পাঠিয়েছে তাদের কথা বলার জন্য। আমরা রিজনেবল অ্যান্ড লজিক্যাল থাকব। সংসদে কথা বলার অধিকার সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যদের থাকলেও সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্পিকারের এখতিয়ার।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে ২১০ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এর আগে বিএনপির সঙ্গে সরকারে থাকলেও এই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল হওয়া জামায়াতের আমিরের মতে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদে কার্যকর বিরোধী দল ছিল না।
সরকারি দলই কার্যত বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। এমনকি বিরোধী দলের নেতা নির্ধারণের বিষয়টিও সরকারি দলের ওপর নির্ভর করত। অন্যদিকে আরেক ধরনের বিরোধী দল ছিল যারা সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, উত্তেজনাকর আচরণ করে দীর্ঘদিন সংসদ বর্জন করত। জামায়াত এ দুই ধরনের রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, তারা সংসদে অকারণ হট্টগোল-ওয়াকআউট-নির্ভর বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবেন না। জনগণের স্বার্থের বাইরে সংসদে এক মিনিটও ব্যয় করতে চাই না। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদে বেশ কয়েকটি নোটিশ দিয়েছি। প্রথম নোটিশ ছিল গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে অধিবেশন আহ্বানের দাবি নিয়ে। এ বিষয়ে সংসদে যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরার পর দেশের সচেতন মহলও জনরায়কে সম্মান করার পক্ষে মত দিয়েছে। দ্বিতীয় নোটিশ ছিল ব্যাংকিং খাত নিয়ে। দেশের স্টক মার্কেট প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ব্যাংকিং খাতও ভেঙে পড়ার মুখে। তৃতীয় হচ্ছে, প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে দেওয়া নোটিশ, বলেন জামায়াতের আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নোটিশ নিয়ে এ বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষই গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তবে শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবায়ন জরুরি। এ জন্য তারা সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ভারত সীমান্তে ‘পুশইন’ নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য নোটিশের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিষয়টিকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হলেও তাদের (সরকারি দল) সদস্য তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে কার্যসূচি থেকে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে বিষয়টি সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান ‘সংশোধন’ নয়, ‘সংস্কার’ ছিল জনগণের দাবি এবং গণভোটেরও মূল বিষয়। সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হলে তারা বিবেচনা করবেন। তবে সংশোধনের জন্য আলাদা কমিটির প্রয়োজন নেই, বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা অকারণে সংঘাতে যাব না। আবার দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জনও করব না। কোনো যৌক্তিক দাবি উপেক্ষিত হলে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। মতবিনিময়কালে সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন