রাজধানীতে গণভবনের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তবে কোন থানার আওতাভুক্ত এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মোহাম্মদপুর ও শেরেবাংলা নগর থানার ওসি। অন্যদিকে, রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের শাস্তির দাবিতে এক ঝটিকা মিছিল থেকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী টার্মিনালের মূল সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গণভবন ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের সামনের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তবে দুই ওসির দাবি, তাদের থানার মধ্যে মিছিল করেনি যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় কাউকে আটক করার খবরও পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে যুবলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী প্রথমে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর মিছিলটি সড়ক ঘুরে গণভবনের সামনে মূল ফটক পার করে শেষ করে। এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তারা মিছিলটি শেষ করে চলে যায়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের থানা এলাকায় কোনো মিছিল হয়নি। আর এ মিছিল কখন হয়েছে আমাদের জানা নেই। যা দেখলাম এটি শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় হয়েছে। মিছিল থেকে কেউ আটক হয়নি। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি মিছিলটি সড়কের মাঝখানে হয়েছে। তবে, এটি আমাদের থানার মধ্যে পড়েনি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি।
অন্যদিকে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মহাখালী টার্মিনালের মূল সড়কে ঝটিকা মিছিল থেকে নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলোÑ মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০), শামীম আরা বেবি (৫০) ও শামীম হোসেন (৪৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের প্ল্যাকার্ডও ছিল। তারা প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবনাময় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহানদের বিচার এবং মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান নেওয়ারও চেষ্টা করে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে তিন-চারটা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের লোকজন এটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটিয়েছে তাদের থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচির তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। ব্যানারেও একটু ডিফরেন্ট শব্দ লেখা। আমরা তদন্ত করছি।

