আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রীড়াঙ্গনে লুটপাটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাপন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম, কনসালট্যান্ট নিয়োগ, বিপিএলে লুটপাট ও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগে নাজমুল হাসান পাপন আমলের সব উন্নয়ন কাজের নথিপত্র তলব করেছে দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. সাইদুজ্জামানের সই করা চিঠিতে এসব নথি চাওয়া হয়। চিঠির অনুলিপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে নাজমুল হাসান পাপন এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যদের টিম গঠন করে দুদক। এরপর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিসিবি থেকে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণসংক্রান্ত টেন্ডার, কনসালট্যান্ট নিয়োগের নথিপত্র এবং বিসিবির বিভিন্ন আয়-ব্যয়ের যাবতীয় রেকর্ড তলব করে চিঠি দিয়েছে দুদক টিম। এর আগে পাপন ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক তিনটি মামলা করেছে ২০২৫ সালের ৫ মে। ওই মামলায় পাপনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
অনুসন্ধানেরর স্বার্থে যেসব নথি তলব করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগের বিজ্ঞাপন, ইওআই ও প্রোপোজাল ডকুমেন্ট, ইভালুয়েশন ক্রাইটেরিয়া ও রিপোর্ট, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, কনসালট্যান্ট নিয়োগের গোপনীয় কস্ট এস্টিমেট ও চুক্তিপত্রের কপি। এ ছাড়া ঠিকাদার নিয়োগ পদ্ধতি, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধসংক্রান্ত দলিল এবং জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। নাজমুল হাসান পাপন সভাপতি থাকাকালে বিসিবির আয়-ব্যয়সংক্রান্ত অডিট প্রতিবেদন এবং আইসিসি ও এসিসির লভ্যাংশ প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালার কপি, লজিস্টিকস ও প্রটোকল এবং বিপিএল বাবদ খরচের বিবরণ। এ ছাড়া বিদেশি কোচ নিয়োগের নীতিমালা, তাদের সম্মানী ও বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রমাণপত্র।
‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব ১০০’ এবং ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের নামে ব্যয়িত অর্থের রেকর্ডপত্র ও নোটশিটও চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি ভারতীয় সংগীত ব্যক্তিত্ব এ আর রহমানের কনসার্ট আয়োজনসংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। কোন অডিট ফার্ম দ্বারা বিসিবির অডিট করানো হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তালিকা এবং বিল প্রদানের রেকর্ডপত্রও দেখতে চেয়েছে দুদক।
অভিযোগ সূত্রে আরও বলা হয়, নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। একই সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত জামাতা ও অন্যান্য কর্মকর্তার যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদক জানায়, নাজমুল হাসান পাপন বিসিবির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে পাপন, তার স্ত্রী রোকসানা হাসান, মেয়ে সুনেহরা রহমান, রুশমিলা রহমান এবং ছেলে রাফসান হাসানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। অবশ্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই পাপন ও তার পরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য ছিল। তিনি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

