ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

স্থূল হলেই ভয় নেই আবার ওজন কম হলেই নিরাপদ নয়

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির কল্যাণে মধ্যবয়সি বা ৪০ বছরের বেশি বয়সি স্থূল ব্যক্তিদের রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা এখন স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মতোই নিয়ন্ত্রণে থাকছে। ফলে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে এসেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক ওষুধ ব্যবহারের কারণে স্থূল ও স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মধ্যে হৃদরোগের প্রধান দুটি ঝুঁকিÑ উচ্চ রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রার পার্থক্য এখন প্রায় মুছে গেছে। মূলত স্ট্যাটিন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের ব্যাপক ও কার্যকর ব্যবহারের ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসাধীন স্থূল ব্যক্তিরা ওষুধ না খাওয়া স্বাভাবিক ওজনের মানুষের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও তাইওয়ানের প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখেন, গত কয়েক দশকে স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা তাদের হৃদরোগের ঝুঁকিকে স্বাভাবিক ওজনের মানুষের স্তরে নামিয়ে এনেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মজিদ এজ্জাতি জানান, এই ফল প্রমাণ করে যে, সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্যবয়সি এবং প্রবীণ ব্যক্তিরা তাদের ওজনের আধিক্য থাকা সত্ত্বেও হৃদরোগের ঝুঁকি সফলভাবে কমিয়ে আনতে পারছেন। বর্তমানে বাজারে আসতে থাকা নতুন নতুন ওজন কমানোর ওষুধের পাশাপাশি এই প্রচলিত চিকিৎসাগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা বোঝার জন্য এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই স্বস্তিদায়ক খবরের পাশাপাশি গবেষকরা একটি বড় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই সুবিধাটি মূলত ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, ৪০ বছরের কম বয়সি স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এখনো উচ্চ রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেক বেশি রয়ে গেছে। তা ছাড়া ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ব্রায়ান উইলিয়ামস জোর দিয়ে বলেন, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ওষুধের এই সাফল্য জনস্বাস্থ্যের জন্য দারুণ বিজয় হলেও স্থূলতার অন্যান্য ক্ষতিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ স্থূলতা এখনো ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। তাই ওষুধনির্ভরতা কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থূলতা প্রতিরোধ ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।