ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

গাইবান্ধায় ভাঙন আতঙ্কে আট শতাধিক পরিবার

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:৫৪ এএম

পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে গাইবান্ধার প্রধান নদীসমূহÑ তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়ার পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার ফলে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি, ফসলের খেত এবং অসংখ্য বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে নদী-তীরবর্তী আট শতাধিক পরিবার বর্তমানে গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং নদীপাড়ের মানুষ চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় পার করছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া জানান, তার ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ভাঙনের কবলে পড়েছে। এই ভাঙনে প্রায় ১০০ বিঘা আবাদি জমি ও একটি মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং প্রায় ৭০টি পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল এলাকায় ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং সেখানকার সিধাইল কওমি মাদ্রাসাটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, রসুলপুর, উড়িয়া ও ফজলুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চর ও গ্রামগুলোতে ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী বুধবার থেকে গাইবান্ধাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জেলায় টানা তিন থেকে চার দিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।