ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

অফিস না করেই নেন বেতন-ভাতা

মো. তাহের, নড়াইল
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:৫৩ এএম

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা ও সব ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ক্ষমতার দাপটে তটস্থ থাকেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তার প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী যে, সাধারণ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে চলেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে কালিয়া বিআরডিবি অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মবহির্ভূত কর্মকা-ে লিপ্ত।

অফিসে নামমাত্র হাজিরা দিয়েই তিনি অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। সপ্তাহের ছয় দিনই কর্মস্থলে না থেকে শুধুমাত্র একদিন অফিসে এসে সারা সপ্তাহের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। গত ২৮ জুন বেলা ১১টার দিকে বিআরডিবি অফিসে সরেজমিন গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অথচ বিস্ময়করভাবে ওই দিনের হাজিরা খাতায়ও তিনি উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন। রোজিনা আক্তারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে অফিসের কম্পিউটার অপারেটরের গুরুত্বপূর্ণ পদটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারটি ব্যবহার না করায় সেটি নষ্ট হওয়ার পথে। অফিসের সহকর্মীদের অভিযোগ, তিনি দাপ্তরিক কাজের চেয়ে প্রভাব বিস্তারে বেশি আগ্রহী। গত ৭ জুন দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তিনি ভূমি সংক্রান্ত একটি বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে তার বাগবিত-া ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাজহারুল ইসলাম গত ১১ জুন নড়াইল সদর থানায় রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কু-ু অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বেতন-ভাতা উত্তোলনের এ ঘটনায় নড়াইলের সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে একই দিনে ভিন্ন স্থানে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোজিনা আক্তার দাবি করেন, ‘আমি অফিস করি না, এটি পুরোপুরি সত্য নয়। তবে আমার মা অসুস্থ থাকায় তাকে দেখাশোনার প্রয়োজনে কিছুটা গাফিলতি হতে পারে।’ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, ‘আমি কালিয়াতে সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করি। যেদিন আমি আসি, সেদিনই তাকে পাওয়া যায়। এর বাইরে বাকি দিনগুলোতে তিনি অফিসে আসছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে কথা বলতে বিআরডিবির জেলা অফিসে গিয়ে উপ-পরিচালক মো. গোলাম রছুলকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।