ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

প্রযুক্তির অতিব্যবহার যেভাবে বদলে দিচ্ছে আপনার শরীর

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

আজকাল স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমাদের সব দুশ্চিন্তা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। কিন্তু আমাদের অজান্তেই স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস পুরো শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। অতি সাম্প্রতিক বিজ্ঞান বলছে, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের ঘাড়ের গঠন বদলে দিচ্ছে, চোখের ক্ষতি করছে, পেশির শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে, এমনকি চালন দক্ষতাও নষ্ট করছে। তবে এখনই সচেতন হয়ে কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলে এই শারীরিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখায় ঘাড়ে প্রায় ২৭ কেজি পর্যন্ত বাড়তি চাপ পড়ে, যাকে চিকিৎসকেরা ‘টেক নেক’ বলছেন। এটি মেরুদ-ের ক্ষতি করে এবং ফুসফুসের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা এড়াতে ফোন সব সময় চোখের সমান্তরালে রাখা এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া উচিত। এ ছাড়া যারা সারাক্ষণ স্মার্টওয়াচ পরে থাকেন, তাদের ত্বকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে একজিমা বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই নিয়মিত স্মার্টওয়াচ খুলে ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া বা মায়োপিয়ার হার বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত সময় কাটানো। বাইরের উজ্জ্বল আলো চোখের রেটিনা থেকে ডোপামিন নিঃসারণ করে, যা চোখের সুরক্ষায় কাজ করে। ডিজিটাল লাইফস্টাইলের কারণে মানুষ এখন বাইরে কম বের হওয়ায় পরোক্ষভাবে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে ও প্রকৃতির মাঝে কাটানো উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটার-নির্ভর অলস জীবনের কারণে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাত মুঠো করার শক্তি বা গ্রিপ স্ট্রেন্থ আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যা সার্বিক স্বাস্থ্যের অবনতির লক্ষণ। এই শক্তি বাড়াতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে মানুষের বাস্তব জীবনের সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা বা চালনদক্ষতা কমে যাচ্ছে। এই স্থবিরতা কাটাতে দৈনন্দিন জীবনে রান্নাবান্না, হাতের লেখা বা হস্তশিল্পের মতো কায়িক পরিশ্রমের কাজ যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।