ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ জরুরি নির্দেশনা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:৩৩ এএম

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সাতটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।

এ ছাড়াও সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সব বিভাগীয় পরিচালক, সব জেলার সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অনুমোদনক্রমে ৭টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলোÑ বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোয়ন প্রদান করতে হবে, ফোকাল পারসন কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পারসনের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে, বন্যাদুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্যদের সমন্বয়ে বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে, বন্যাদুর্গতদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত সব কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, প্রেস নোট প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। আজ রোববার বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিতকরণের জন্য জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করতে হবে, বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস/স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সব কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।