প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ সোমবার বরিশাল সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ উপলক্ষে নেই কোনো জাঁকজমক, এমনকি হচ্ছে না জনসভাও। অবশ্য সাংগঠনিক সভা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এদিকে প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার আনন্দে বিএনপির কর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। নেতাকে স্বাগত জানিয়ে এরই মধ্যে বরিশাল নগরীতে বেশ কয়েকটি আনন্দ মিছিল হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির সাংগঠনিক সভায় স্থানীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হতে পারে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরিশাল পুলিশ ও প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বরিশাল আসছেন তারেক রহমান। তার এ সফরে কোনো জাঁকজমক থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে হবে না কোনো অপব্যয়। তোরণ নির্মাণের বিষয়েও অনীহার কথা জানান বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এ বিষয়ে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বরিশালে তিনি আসবেন বা যেকোনো জায়গায় যাবেন, সেখানে শত শত গেট হবে, তোরণ হবে; এতে যে অর্থ খরচ হবে, সেটাকে অপব্যয় মনে করেন তিনি।’
বরিশাল জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি। সব আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। স্থানীয় বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এ কারণে দলীয় প্রধান সন্তুষ্ট। বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বরিশাল বিএনপির ওপর অত্যন্ত খুশি। আমরা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে সম্প্রসারণ, ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন, ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেলসংযোগ স্থাপনের বিষয়গুলো তার কাছে উপস্থাপন করব।’
সূত্র জানায়, কোনো জনসভা না হলেও সাংগঠনিক বৈঠকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যোগ দেবেন তারেক রহমান। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উত্তর-দক্ষিণ মহানগর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটা সাংগঠনিক সভা করবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিরাপদ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন নির্ঝঞ্ঝাট ও শঙ্কামুক্ত হবে। নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সড়কপথে রাজধানী থেকে বরিশালে আসবেন। আজই কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। শহরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতীরের বধ্যভূমি খালপাড়ে গাছের চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময়ে ৫ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর আগে সড়কপথে বরিশালে প্রবেশের আগে গৌরনদীতেও তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রয়েছে।
বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বরিশালের সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে পারেন।

