ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি বন্ধ পাঠদান

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে যাওয়ায় প্রতিবছর ভোগান্তিতে পড়তে হয় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের। এবার টানা বৃষ্টিতে মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে হাঁটু সমান পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গত চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ৩৬০ জন শিক্ষার্থী।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের এ প্রতিষ্ঠানটির একতলা ভবনে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে পড়াশোনা করে প্রায় ২০০ শিশু শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনা থেকে আসা প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক হিসেবে মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করছে।

শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আর্থিক সংকটের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারছে না।

মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগটি সবার আগে পানিতে ডুবে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নষ্ট হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’ ুদ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে ভরে গেছে। শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারছেন না, আমরাও খেলাধুলা করতে পারছি না।’

মাদ্রাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমাদের এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। জমে থাকা পানি বের করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে পানি না জমে, সে জন্য স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’