ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

বজলুর রহমান, শিবচর (মাদারীপুর)
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৭:২০ এএম

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর বাজারসংলগ্ন এলাকায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতঘর, উঠান, ধর্মশালা ও স্থানীয় মন্দির। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে ডুবে আছে। অনেক পরিবার ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের ভেতরে চলাচল করছে। রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকের চুলা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রান্নাবান্না, চলাচল, টয়লেট ব্যবহারসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে বিছানাপত্র, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি এলাকায় সাপসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল ও কালভার্টের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বর্ষা এলেই এ দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিষ্ণু চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই সমস্যায় পড়তে হয়। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মন্দিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, ধর্মশালাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমরা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই।’

আরেক বাসিন্দা দুর্লভ চন্দ্র পাল বলেন, ‘চারদিকে রাস্তা হয়েছে, কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।’

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’ টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।