বিছানায় ছারপোকার উপদ্রব কেবল একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাই নয়, এটি অনেকের জন্য রীতিমতো মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, কীট নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের কাছে ছারপোকা দমন করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। রক্তচোষা এই পোকা কামড়ানোর ফলে তীব্র চুলকানি হয়। এ ছাড়া বিছানায় কোনো পোকা হেঁটে বেড়ানোও অনেকের কাছেই রীতিমতো আতঙ্কের। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক কৌশল ও ধৈর্যের সঙ্গে এগোলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি এবং সচেতনতা অবলম্বন করলে এই রক্তচোষা পোকা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘরজুড়ে ছারপোকার বিস্তার ঠেকাতে এবং এগুলোকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ও কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আক্রান্ত ঘরের সব বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পোশাক অতিরিক্ত তাপমাত্রায় (কমপক্ষে ১২২ থেকে ১৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ধুয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ড্রায়ার বা কড়া রোদে শুকাতে হবে। কারণ তীব্র গরম ছারপোকার ডিমসহ সব স্তরের জীবাণু ধ্বংস করে। যেসব কাপড় ধোয়া সম্ভব নয়, সেগুলো সিল করা ব্যাগে ভরে চারদিন ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলেও তীব্র ঠান্ডায় পোকাগুলো মারা যায়। এ ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র বা দেয়ালের ফাটলগুলো সিলিকন দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে এবং বিছানা দেয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে সরিয়ে রাখতে হবে, যাতে পোকা চলাচলের সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে বিছানা ও ম্যাট্রেসের জন্য বিশেষ ‘বেড বাগ প্রুফ’ কভার ব্যবহার করলে ভেতরের পোকাগুলো বাইরে বের হতে না পেরে খাবার অর্থাৎ রক্ত না পেয়ে একসময় মারা যায়।
ছারপোকা তাড়াতে ঘরোয়া কিছু ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে চলা জরুরি। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর পরিষ্কারের নামে জিনিসপত্র অন্য ঘরে সরিয়ে নেন, যা উল্টো পুরো বাড়িতে পোকা ছড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া রাবিং অ্যালকোহল, এসেনশিয়াল অয়েল কিংবা বাজারে সাধারণ পোকামাকড় মারার জন্য যেসব ফগার বা ‘বাগ বম্ব’ পাওয়া যায়, সেগুলো ছারপোকার ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। ফগারের বিষাক্ত ধোঁয়া উল্টো পোকাগুলোকে দেয়ালের আরও গভীরে লুকিয়ে পড়তে বাধ্য করে। এর চেয়ে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে নিয়মিত ঘরের কোণ ও তোষকের ভাঁজ পরিষ্কার করা এবং তীব্র গরম বাষ্প ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর। তীব্র আক্রমণের ক্ষেত্রে নিজে চেষ্টা না করে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের সাহায্য নেওয়া উচিত, কারণ তাদের কাছে পোকা দমনের সঠিক রাসায়নিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতি সপ্তাহে বিছানার চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং ঘর সম্পূর্ণ পোকামুক্ত হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

