ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী

সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করব

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাদের সহযোগিতার জন্য সরকার পাশে আছে।  এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব। ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।  গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন, সে কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষ ও সমাজের জন্য সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন উদ্যোক্তা। দেশের লাখো কোটি মানুষের এই উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন। দেশের জন্য এই উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন।  অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’

তরুণ উদ্যোক্তাদের কাজও খুব কঠিন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

সম্প্রতি দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট ছিল। ছোটবেলায় সায়েন্স ফেয়ার বলতে যা বোঝায়, অনেকটা ও রকম। বিভিন্ন স্কুলের শিশুরা সারা দেশ থেকে এসে সেখানে অংশ নেয়। তারা তাদের বানানো নানা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সারা দেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে। আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে।’

ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, সেই প্রত্যাশার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে, আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।  সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টল পরিদর্শন করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। দেশের ঐতিহ্য জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রাফিহা ফ্যাশন হাউসের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানপ্রাপ্তির আবেদনের কথা উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তার হাতেও অনুদানের একটি চেক তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে উদ্ভাবিত প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।