ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

প্রাণীর মৃত কোষ থেকে ছড়াতে পারে ভাইরাস সংক্রমণ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি কোষের মৃত্যু ঘটে এবং নতুন কোষের জন্ম হয়। শরীর সুস্থ ও সচল রাখতে এই নিয়মিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মৃত কোষের রেখে যাওয়া এক নতুন ধরনের ‘মৃত্যুর পদচিহ্ন’ আবিষ্কার করেছেন। এই পদচিহ্নগুলো মূলত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে নির্দেশ দেয় কীভাবে মৃত কোষের বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্ষতিকর ভাইরাসগুলো এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে হাইজ্যাক বা দখল করে নিজেদের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের করা এই গবেষণা সম্প্রতি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা থ্রিডি টাইম-ল্যাপ্স ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে কোষের পরিকল্পিত মৃত্যুর প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে তারা দেখতে পান, কোষগুলো মারা যাওয়ার সময় একধরনের বিশেষ প্রোটিন পকেট বা এক্সট্রাসেলুলার ভেসিকল ফেলে যায়, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। গবেষকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘এফ-অ্যাপোইভিএস’। এগুলো মূলত ইমিউন সিস্টেমের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে, যাতে শরীর দ্রুত মৃত কোষের বর্জ্য পরিষ্কার করে প্রদাহ বা লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

তবে গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ ও উদ্বেগের যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো ভাইরাসের চাতুরী। গবেষকেরা যখন মৃতপ্রায় কোষগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত করেন, তখন দেখা যায়, ভাইরাসগুলো নিজেদের কণা এই ‘এফ-অ্যাপোইভিএস’-এর ভেতরে লুকিয়ে ফেলে। পরে ইমিউন সিস্টেম যখন স্বাভাবিক নিয়মেই সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে আসে, তখন ভাইরাসের এই অংশগুলো অজান্তেই আশপাশের সুস্থ কোষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার এই নতুন কৌশল বিজ্ঞানীদের আগে জানা ছিল না।

গবেষকদের মতে, মৃত কোষের এই সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। সে সময় একদিকে যেমন এই ‘মৃত্যুর পদচিহ্ন’ প্রক্রিয়াটিকে আরও কার্যকর করে অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে; অন্যদিকে ভাইরাস যাতে এটিকে ব্যবহার করে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সে জন্য নতুন ধরনের ওষুধ তৈরি করাও সহজ হবে।