রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ হত্যা মামলার এক আসামি বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। এ কারণে সজীব ব্যাপারীসহ ২১ আসামির বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গতকাল রোববার ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিন। তার পক্ষে আইনজীবী মাশরুর হোসাইন সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত আলী জানান, আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলমগীরের আদালতে মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার বাদী নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে হাজিরা প্রদান করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলাটি আদালত পরিবর্তন চেয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করছেন মর্মে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৭ জুলাই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
মাহিনের আইনজীবী মাশরুর হোসাইন বলেন, গত ১২ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ভারি বৃষ্টির কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি সাত আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। এক দিন সময় না দিয়ে অভিযোগ গঠন করায় ওই আদালতের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে অনাস্থার আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই আবেদনটির শুনানি হবে। আদালতের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়েছে বলে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই মামলার আসামিরা হলেনÑ মাহমুদুল হাসান মাহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজীব ওরফে সজীব ব্যাপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান ব্যাপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস। তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, তিনজন জামিনে এবং বাকি আটজন পলাতক।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট-সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ব্যবসায়ী সোহাগকে এলোপাতাড়িভাবে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ী গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন