দাঁতের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। নষ্ট হয়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া দাঁতের জায়গায় কৃত্রিম ম্যাটারিয়াল, ফিলিং কিংবা ইমপ্লান্টের দিন হয়তো এবার শেষ হতে চলেছে। তার বদলে পুনরুৎপাদনমূলক চিকিৎসাবিজ্ঞান বা ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’-এর মাধ্যমে গবেষণাগার বা ল্যাবেই মানুষের নতুন প্রাকৃতিক দাঁত ও টিস্যু গজিয়ে তোলার অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন একদল গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীদের এই টানা গবেষণা সফল হলে স্থায়ী মুক্তি মিলবে ডেন্টাল চেয়ারে ড্রিলিংয়ের ভয় ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে।
গবেষকদের মতে, মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মুখগহ্বরের সুরক্ষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মাড়ির রোগের ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে হৃদরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং আলঝেইমারসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অথচ বর্তমানে দাঁত সুরক্ষায় যেসব ধাতব বা কৃত্রিম ফিলিং ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর স্থায়িত্বকাল সীমাবদ্ধ এবং বেশ কয়েক বছর পর আবারও নতুন চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে কৃত্রিম ইমপ্লান্টে প্রাকৃতিক কোনো স্নায়ু না থাকায় চিবানোর স্বাভাবিক অনুভূতি মেলে না এবং এটি থেকে ইনফেকশনের ঝুঁকিও থেকে যায়। এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে বিজ্ঞানীরা এবার প্রাকৃতিকভাবে দাঁত পুনর্গঠনের পথ বেছে নিয়েছেন।
নতুন এই চিকিৎসায় মূলত স্টেম সেল এবং বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের দাঁতের এনামেল ও ডেন্টিন গঠনকারী কোষগুলোকে গবেষণাগারে কেমিক্যাল সিগন্যালের সাহায্যে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে গবেষকরা গবেষণাগারে বিশেষ ধরনের ‘লিভিং ফিলিং’ বা জীবন্ত ফিলিং তৈরি করেছেন, যা ভাঙা বা ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতে প্রয়োগ করলে তা নিজ থেকেই টিস্যু মেরামত করতে পারবে। এ ছাড়া শূকর ও ইঁদুরের কোষের সঙ্গে মানুষের টিস্যুর সমন্বয়ে বায়ো-স্কাফোল্ড ব্যবহার করে দাঁতের মতো গঠন তৈরিতে সাফল্য মিলেছে। বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যÑ এমন এক কোষভিত্তিক চিকিৎসা তৈরি করা, যা মানুষের মুখের ভেতরে বসিয়ে দিলে তা স্বাভাবিক নিয়মে একটি পূর্ণাঙ্গ ও জীবন্ত দাঁত গজিয়ে তুলবে।
যদিও বাণিজ্যিক ও সাধারণ ব্যবহারের আগে এই চিকিৎসা আরও কয়েক ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং প্রাণীদের ওপর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে, তবুও বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। গবেষণাগারে প্রস্তুত এই প্রাকৃতিক প্রযুক্তি প্রচলিত কৃত্রিম ব্যবস্থার স্থায়ী ও নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠবে। অদূর ভবিষ্যতে ডেন্টাল সার্জারির যন্ত্রণা এড়িয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সুস্থ দাঁতে ফিরতে পারবেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। সূত্র : বিবিসি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন