ঢাকার বেড়ে ওঠার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে অনেক আবেগ, অনুভূতি। জৌলুস ও চাকচিক্যময় এই মহানগরীর বাসিন্দাদের অনেকেই জানেন না ঢাকার বেড়ে ওঠার গল্প ও ইতিহাস। সেই সব গল্পই রং-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের জয়নুল আর্ট গ্যালারি-১-এ শুরু হয় ‘ঢাকা: বলা না বলা কথা’ শিরোনামের সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী। এটি তাদের নিয়মিত আয়োজনের ষষ্ঠ প্রদর্শনী।
অ্যাক্রেলিক, মিশ্র মাধ্যম, জলরং ও চারকোলে ঢাকার ২০০ বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের নানা দিক ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত নগরীর জীবনযাত্রা, পুরান ঢাকার স্থাপত্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং আধুনিক নগরের পরিবর্তিত রূপ শিল্পীদের ক্যানভাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেনÑ শামসুন্নাহার নাসরিন, মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, মোহাম্মদ রাশেদ কামাল, আব্দুস সাত্তার তৌফিক, সুমন বসাক, শামীমা সুলতানা, ঊর্মিলা শুক্লা, মোনতাসিরা আরজু সিমি, ফারহানা আক্তার স্বপ্না, সখিনা আক্তার শিমু, শিবানন্দ অধিকারী বিপ্লব, মোহাম্মদ মহিদুল হাসান, শক্তিপদ হালদার, রানীয়া আলম, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, হাবিবা আক্তার পাপিয়া, তাহসিনা নাজনীন, এস এম বদরুল হাসান খান পাঠান, শাহনাওয়াজ সুধি, ফারহানা ইয়াসমিন নিপু, নুসরাত আহমেদ ও দীপা ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আর্টিস্ট মহম্মদ ইউনুস এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল। উদ্বোধনীর শুরুতে ভাস্কর হামিদুজ্জামান স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বুড়িগঙ্গার তীরে ভেড়ানো ডিঙি নৌকা, জনাকীর্ণ শাঁখারি বাজারের রাতের দৃশ্য, পুরান ঢাকার পুরোনো জীর্ণশীর্ণ বাড়ি, পুরান ঢাকার রাস্তা ও সরু গলিতে রিকশার ছুটে চলা, যান্ত্রিক শহরে কাজের খোঁজে কর্মজীবীদের ছুটে চলার ব্যস্ততা, কোলাহলমুখর মহানগরীর নীরব সকাল, লালবাগ কেল্লায় অবস্থিত পরীবিবির মাজার, রিকশা পেইন্টিং, রিকশাভ্রমণ, দূষিত বুড়িগঙ্গার দৃশ্যসহ ২৩ জন শিল্পীর ২৭টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস বলেন, ছবি আঁকাটা আনন্দের বিষয়। প্রথমে আনন্দ, এরপর বিষয়বস্তু। শিল্পীরা সমাজের আয়না। দায়বদ্ধতা থেকেই শিল্পীরা ছবির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিফলন ঘটান। একসঙ্গে অনেকে মিলে কাজ করাতে দলীয় প্রদর্শনীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা সম্ভব হয়ে থাকে। পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিল্পীরা ঢাকাকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটা প্রশংসার দাবিদার। ঢাকাকে তারা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিষয়কেও এভাবে তুলে ধরবেন বলে আমি মনে করি।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, পঞ্চম ব্যাচ প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। তাদের এটি ষষ্ঠবারের আয়োজন। শিল্পকর্মে তারা ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য যেভাবে তুলে ধরেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিষয় উপজীব্য করে তারা প্রতি বছর প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আমার ছোট বোন পঞ্চম ব্যাচের। তাই এই পঞ্চম নিয়ে আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে। এই ব্যাচের শিল্পী হিসেবে তাদের ব্লেন্ড তৈরি করতে পেরেছে। দলীয় প্রদর্শনীতে নানাজনের নানান চিন্তাধারার সন্নিবেশ থাকে বলে একক প্রদর্শনী থেকে দলীয় প্রদর্শনীর ক্যানভাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। দলীয় প্রদর্শনীতে কাজ করার অনেক সুযোগ থাকে। আমি তাদের এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী।