আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ দশম অবস্থানে রয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের অবস্থান ১৩তম। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা নন-টেস্ট খেলুড়ে দেশ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ চ্যালেঞ্জ দেখছেন লিটন দাস। সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই চ্যালেঞ্জের। লিটনের কথায়, ‘যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচই আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। নেদারল্যান্ডসও ভালো টিম। হয়তো বা তারা এই কন্ডিশনে খুব একটা খেলে না। কিন্তু যদি ভালো উইকেটে ক্রিকেট হয়, তারা ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত। তাই, দুই দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে।’ লিটন আরও বলেন, ‘যদি এশিয়া কাপের আগে আমাদের হাতে এটা একটি সুযোগ যে, কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়ার। আমরা সেটি করব। পাশাপাশি জেতার জন্যই আমরা নামব।’
আগামী সেপ্টেম্বরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে হবে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসর। এই মেগাটুর্নামেন্টের জন্য দল কতটা প্রস্তুত হতে পারল, সেটি দেখার বিষয়। লিটন বলেন, ‘এশিয়া কাপে ভিন্ন দল থাকবে। সেই টিম তো আমরা এখানে আনতে পারব না। তবে প্রায় একই কন্ডিশন হওয়ার কথা। কারণ, আমরা সবাই জানি আবুধাবিতে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট হয়। সিলেটও অনেকটাই ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট। তাই যদি আমি দেখতে চাই তাহলে ওইদিক দিয়ে থাকবে। আর অবশ্যই ২০০-২৫০ রান করা অভ্যাসের বিষয়। আমরা যদি করতে পারি খুবই ভালো। না করতে পারলেও আমরা ওই ধারাবাহিকতায় চেষ্টা করব যে ওইখানে কীভাবে পৌঁছানো যায়।’ নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলে সেটি এশিয়া কাপে প্রভাব পড়বে কি না? লিটন বলেন, ‘না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কোনো দল নেই যে ছোট। আমরা সব সময় খেলি জেতার জন্য এবং গত বা ভবিষ্যতেও যতগুলো গেম খেলব, সব জেতার জন্যই যাব। ঝুঁকি না জিনিসটা।
বাংলাদেশ এর আগেও অনেক টিমের কাছে হেরেছে, নতুন কোনো কিছু না। যদি হেরেও যাই, হেরে যেতেই পারি। দুইটা দলই খেলতে এসেছে, একটা টিম জিতবে, একটা টিম হারবে। কিন্তু আমরা কতটা ক্রিকেট ভালো খেলতে পারতেছি, এটা হচ্ছে মূল বিষয়।’ এশিয়া কাপ ও নেদারল্যান্ডস দলে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসান। এই দুই ক্রিকেটারের দলে অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে লিটনের বক্তব্য, ‘আমি তো খুশি আমার টিমে দুজন খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন। তার মানে এই নয় যে, যারা এখান থেকে টিমে নাই, তারা খারাপ খেলোয়াড়।
তারাও বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও আবারও তারা হয়তো বা আবার কামব্যাক করবে। সোহান এবং সাইফ বিগত অনেক বছর ধরেই ভালো ক্রিকেট খেলছে। স্পেশালি সোহান ভাই তো অনেক দিন ধরেই মোটামুটি ভালো ক্রিকেট খেলছে। আর সাইফের যে জিনিসটা, সাইফের গত বিপিএল ও জিটি এবং একটা গেম খেলে এলো অস্ট্রেলিয়াতে।
তার খেলার যে প্যাটার্নটা ছিল এবং আমার কাছে মনে হয়, আমাদের এমন একটা খেলোয়াড় দরকার ছিল, যে কি না একটু অ্যাগ্রেসিভ মাইন্ডে ক্রিকেট খেলতে পারবে মিডল অর্ডারে অ্যান্ড এক-দুই ওভার যার কাছ থেকে বোলিং পাওয়া যায়। ওই জন্যই কিন্তু সাইফকে আমদের নেওয়া। চেষ্টা করব যে সাইফের যে ক্যালিবারটা আছে, যেটা সে ন্যাশনাল টিমের বাইরে যে গ্রেড ক্রিকেটগুলো ছিল ওখানে খেলেছে, সেগুলো এখানেও খেলার চেষ্টা করবে। যদি তারা সুযোগ পায়, আমি চেষ্টা করব। আমি চাইবই তারা যেন তাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারে বাংলাদেশের জন্য।’