অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে চার দিনের টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তাদের প্রতিপক্ষ সাউথ অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৩ উইকেটে ১০৬ রান করে। শাহাদাত দিন শেষ করেন ৪২ রানে অপরাজিত থেকে। সাউথ অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে করতে হবে আরও ১৬০ রান। প্রথম দিনে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে ১১৪ রানে গুটিয়ে অস্ট্রেলিয়ানরা দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ২০৪ রান নিয়ে। দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার তাদের ইনিংস থামে ৩৮০ রানে। লিড পায় তারা ২৬৬ রানের। ৮৩ রানে অপরাজিত থাকা জেসন স্যাঙ্ঘা শেষ পর্যন্ত আউট হন ১৪৩ রানে। হ্যারি নিলসেনের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান। বাংলাদেশের পেসার এনামুল হক ও বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ নেন তিনটি করে উইকেট। স্যাঙ্ঘার ব্যাটে রানের প্রবাহ চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। গত শেফিল্ড শিল্ডে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ফাইনালেও সেঞ্চুরি করে তিনি সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন। ওই আসরে ছয় ম্যাচে ৭০৪ রান করেছিলেন তিনি ৭৮.২২ গড়ে। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক দিনের ম্যাচের সিরিজের তিনটির মধ্যে দুটিতে করেন ফিফটি।
পরে লঙ্কানদের বিপক্ষে আন-অফিসিয়াল টেস্টে উপহার দেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ার-সেরা ২০২ রানের ইনিংস। তার রানের স্রোতে এবার ভেসে গেল বাংলাদেশের বোলারদের প্রচেষ্টাও। ষষ্ঠ উইকেটে স্যাঙ্ঘার সঙ্গে নিলসেনের জুটিতে আসে ১৫৮ রান। দলের রান তিনশ পেরিয়ে নিলসেনের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। হাসান মুরাদের বলে কিপার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের হাতে ধরা পড়েন তিনি ১৪৬ বলে ৮৬ করে। মুরাদ পরে হ্যানো জ্যাকবসকে (৬) ফেরান দ্রুতই। তবে অষ্টম উইকেটে হেনরি থর্নটনকে নিয়ে আবার অর্ধশত রানের জুটি গড়েন স্যাঙ্ঘা। ২৫ বছর বয়সি ব্যাটসম্যানকে শেষ পর্যন্ত থামান এনামুল হক। ২৩৫ বলে ১৪৩ করে ধরা পড়েন তিনি মুশফিক হাসানের হাতে। পরে শেষ দুই উইকেট বেশ দ্রুতই নিয়ে নেন হাসান মাহমুদ ও এনামুল। ৭ চারে ৪৬ রান করে থর্নটনের বিদায়ে শেষ হয় সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ ‘এ’। প্রথম ওভারে চার দিয়ে শুরু করলেও ওই ওভারেই বিদায় নেন মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৩। প্রথম ইনিংসে ২ রান করে আউট হওয়া অমিত হাসান এবার পারেননি রানের খাতা খুলতেই। জর্ডান বাকিংহ্যামের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সফল এই ব্যাটসম্যান। বিপর্যয়ের শঙ্কার মধ্যে তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন ইফতেখার হোসেন ইফতি ও শাহাদাত হোসেন। ইফতেখারের পথচলা থামে ৩৫ রান করে ওয়েস অ্যাগারের বলে কিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে। দিনের বাকি সময়টা নির্বিঘেœ পার করে দেন শাহাদাত ও ইয়াসির আলি চৌধুরী।