× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
সমরেশ মজুমদার

উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র থেকে বাংলা সাহিত্যের ধ্রুবতারা

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৭:২২ এএম

উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র থেকে  বাংলা সাহিত্যের ধ্রুবতারা

বাংলা সাহিত্যের আকাশে যে কজন নক্ষত্র সমকালীন রাজনীতি, সমাজ এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, সমরেশ মজুমদার তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০২৩ সালের ৮ মে তিনি পরলোকগমন করেন। আজ তার তার প্রয়াণ দিবস। পাঠকের হৃদয়ে তিনি আজও সজীব তার কালজয়ী সৃষ্টিসমূহের মাধ্যমে।

জন্ম ও চা বাগানের শৈশব

১৯৪২ সালের ১০ মার্চ জলপাইগুড়ির গয়েরকাটা চা-বাগানে সমরেশ মজুমদারের জন্ম। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের সেই সজল প্রকৃতি, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং গহিন বনাঞ্চল তার মজ্জায় মিশে গিয়েছিল। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। উত্তরবঙ্গের সেই মাটি ও মানুষের ঘ্রাণ পরবর্তীকালে তার অসংখ্য ছোটগল্প ও উপন্যাসে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

কলকাতার হাতছানি

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতায় পাড়ি জমান। কলকাতার বিখ্যাত স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলকাতার নাগরিক জীবন এবং উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক জীবনের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছিল তার ভাবনায়, যা তার সাহিত্যকে দিয়েছিল এক ভিন্ন মাত্রা।

নাটক থেকে কথাসাহিত্য

সমরেশ মজুমদারের লেখক সত্তার বিকাশ ঘটেছিল অনেকটা নাটকীয়ভাবে। তার প্রথম লেখা ‘অন্যমাত্রা’ আসলে কোনো গল্প হিসেবে নয়, বরং একটি মঞ্চনাটক হিসেবে লিখেছিলেন। ১৯৬৭ সালে সেটি জনপ্রিয় ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর লেখক হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়। এর প্রায় এক দশক পর, ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি জানান দিয়েছিলেন যে বাংলা সাহিত্য এক শক্তিশালী কথাশিল্পীকে পেতে যাচ্ছে।

বিপ্লব ও প্রেমের অমর আখ্যান

সমরেশ মজুমদারকে বিশ্বজুড়ে বাঙালির কাছে অমর করে রেখেছে তার রাজনৈতিক ট্রিলজি হলো উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ।

সত্তরের দশকের উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, নকশাল আন্দোলন এবং সেই সময়ের যুবসমাজের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প তিনি বুনেছিলেন অনিমেষ ও মাধবীলতা চরিত্র দুটির মাধ্যমে। বিশেষ করে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মাধবীলতা চরিত্রটি হয়ে উঠেছিল শক্তির আধার এবং এক আদর্শ নারীত্বের প্রতীক।

নারীবাদ ও ‘সাতকাহন’

নারীর ক্ষমতায়ন এবং সংগ্রামের এক মহাকাব্যিক চিত্রায়ণ দেখা যায় তার ‘সাতকাহন’ উপন্যাসে। ‘দীপাবলি’ চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একটি মেয়ে সমস্ত সামাজিক প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই উপন্যাসটি দুই বাংলাতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং আজও পাঠকদের কাছে এটি অনুপ্রেরণার উৎস।

বিচিত্র সাহিত্যকর্ম ও টেলিভিশন

তার বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো; উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ, সাতকাহন (দুই খ-), গর্ভধারিণী, আট কুঠুরি নয় দরজা, অন্যমাত্রা (প্রথম প্রকাশিত গল্প), একশ পঞ্চাশ (গল্প সংকলন)।

তিনি কেবল বড়দের লেখক ছিলেন না, ছোটদের জন্য তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ‘অর্জুন’ ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। এ ছাড়া তার ভ্রমণকাহিনিগুলো পাঠকদের ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের স্বাদ দিত।

টেলিভিশনের পর্দায় তার সাফল্য ছিল অভাবনীয়। তার লেখা কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত ‘তেরো পার্বণ’ বাঙালি ড্রয়িং রুমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। ‘সওয়ার’, ‘টাকাপয়সা’র মতো গল্পগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

পুরস্কার ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

সমরেশ মজুমদার দীর্ঘদিন আনন্দবাজার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অগণিত সম্মাননা: আনন্দ পুরস্কার (১৯৮২), কালবেলা উপন্যাসের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৮৪), বঙ্কিম পুরস্কার, বিএফজেএ এবং চিত্রনাট্য লেখার জন্য দিশারী অ্যাওয়ার্ড।

মহাপ্রয়াণ

দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বা সিওপিডি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছিলেন। ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের মে মাসের ৮ তারিখে ৮১ বছর বয়সে এই কথাশিল্পীর জীবনাবসান ঘটে।

সমরেশ মজুমদার বলতেন, ‘মানুষের জীবন কোনো সরলরেখা নয়।’ তার সাহিত্যেও জীবনের সেই বক্রতা, জটিলতা এবং শেষমেশ মানুষের টিকে থাকার লড়াই জয়গান গেয়েছেন তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!