× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শহিদুল ইসলাম রাজী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও শঙ্কা

শহিদুল ইসলাম রাজী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও শঙ্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ট্রেন এখন শেষ স্টেশনের একেবারে কাছাকাছি। নির্বাচনি মাঠে প্রস্তুত রাজনৈতিক দলগুলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনÑ সব পক্ষেই নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতির শেষ। নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা, তবু নির্বাচনে নিরাপত্তার শঙ্কায় রয়েছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। ফলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সহিংসতার আশঙ্কা, মব-সন্ত্রাস, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নসহ নানা কারণে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন ও গণভোট উপহার দিতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা। গত রোববার থেকে সারা দেশে সাত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট। তিন ধাপে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, আনসার, নৌবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করতে সব জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার নির্বাচনি মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী সরকারের আমলে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার নির্বাচনের দিন সহিংসতার ঘটনা বাড়তে পারে। এসব ঘটনা রোধে ইসির শক্ত অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকরী ভূমিকার বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ এ ধরনের পরিবেশ পায়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে সহিংসতার পরিবর্তে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আকাক্সক্ষা বেশি। তবে নিরাপত্তার শঙ্কার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন বলা হলেও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত-সহিংস ঘটনার শঙ্কায় যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলনসহ নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪। এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কমবেশি অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী ও মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী এবং অনুসারীদের ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। 

ইসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সূত্রের তথ্যমতে, ভোটগ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি অপরাধের সংখ্যা তত বাড়ছে। গত ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণার দিন থেকে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে পাঁচ শতাধিক নির্বাচনি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি রাজনৈতিক হত্যাকা-, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে ১৮০টি সংঘর্ষ, ২৮টি অবরোধ বা বিক্ষোভ, প্রার্থীর ওপর আক্রমণ ৪২টি এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার ১১৯টি ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৭০। গত আট দিনে ২০০ নির্বাচনি অপরাধ ঘটেছে।

মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) এক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে নির্বাচনি সহিংসতায় ৫০৯ জন আহত হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত হয়েছিলেন ৯৭ জন। সংস্থাটির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে ৬৪টি সহিংস ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৩টি, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯টি, গণঅধিকার পরিষদ-স্বতন্ত্র ১টি, বিএনপি-জামায়াত ৩৩টি, বিএনপি-এনসিপি ১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংস ৬৪টি ঘটনার মধ্যে ছয়টি ঘটনায় দুষ্কৃতকারী কর্তৃক নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ২৪টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১৫ জন। আহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। সহিংসতার ২৪টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৬টি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ২টি, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৫টি ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ২৪টি ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনায় ভাঙচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের দিনের ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকা খুব জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ ওই দিন বেশি মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং নির্বাচনের ফলাফল কাউন্টিংয়ের সময় সহিংসতা ঘটে।’

তিনি বলেন, সহিংসতা হলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না, কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল না, এতে অনেক মানুষের জীবন গেছেÑ এই কথাগুলো উঠবে। নির্বাচন যে এর জন্য থেমে যাবে, এরকমও কিন্তু না।

সাবেক আইজিপি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি হতে পারে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কিছু নাই। কারণ প্রতিটি নির্বাচনেই কিছু না কিছু ঘটে। এটা সেই স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচন থেকেই হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে বাড়তি কোনো শঙ্কা নেই। মোটাদাগে বলা যায়, এবারের নির্বাচন ঘিরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার পথে আমরা আছি। এ কারণে নির্বাচন নিয়ে জনসন্তুষ্টি আছে ঠিক, কিন্তু কোনো দমবন্ধ পরিস্থিতি নেই। আর সন্তুষ্টি আছে বলেই বাড়তি কোনো সমস্যা দেখছি না।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করবেন। ভোটকেন্দ্রের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি, নিরাপত্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরারও ব্যবস্থা থাকছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোটে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী) ১ লাখ ৮ হাজার ৮২৫ জন মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট গ্রহণের সময় সহিংসতার খবর পেলেই একযোগে কাজ করবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন, সব ক্ষেত্রেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করবে এসব বাহিনী। এ ছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই বিশেষ টিম ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। প্রস্তুত করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড। এ ছাড়া ইন্টারনেটে অপতথ্য ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করতে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইসিটি বিভাগের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট), ডগ স্কোয়াড, হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২১ হাজার ২৭৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে জাল ভোট দেওয়াসহ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়ও। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। এতে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনে ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতার খবর পেলেই একযোগে কাজ করবেন সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, ব্যাটালিয়ান আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আমরা ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকায়, যেখানে ঢাকা মহানগরের চারটি জোনের ৩৬ থানায় ২১৩১টি ভোটকেন্দ্রে ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মূল দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা এবং নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হলে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। কোনো জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ না পেলে এই সুরক্ষা অ্যাপ ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাজ করবে।

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা মনে করি, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’

তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনের আগমুহূর্তগুলোতে কী পরিস্থিতি ছিল বা এখন কী আছেÑ সবকিছু মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলেই বিবেচিত।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!