স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময়ে এ দেশের ক্ষমতার মানচিত্র বহুবার বদলেছে নাটকীয় মোড়ে। সেই ধারাবাহিকতার সাম্প্রতিকতম অধ্যায় ‘তারেক রহমান’। পিতার হত্যার শোক, কারাবাস, লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন আর বিতর্ক পেরিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রেখে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছিলেনÑ ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’
গতকাল মঙ্গলবার রবিকরোজ্জ্বল বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির রাজনীতিতে এক চূড়ান্ত পটপরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ এবার অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিল। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো এবং তারা সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার পেলেন। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২০৯ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলসহ বিশ^ব্যাপী এ নির্বাচন স্বীকৃতি পেয়েছে। ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে অবাধ ও বিশ^াসযোগ্য বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির ঘটনা পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। নির্বাচনে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভালোবাসায় বাবা-মায়ের মতো দেশের হাল ধরেন। তবে নির্বাচিত হয়েই দাম্ভিকতার পরিবর্তে দিলেন ঐক্যের ডাক। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার পথচলা কেমন হবে, এটি সহজে অনুমেয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘ অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মতো প্রধান খাতগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো জরুরি চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়ই দলের ভেতরে সক্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন তারেক রহমান। সেবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি জোট। তবে তারেক রহমান এমপি পদে নির্বাচন করেননি। পরে ২০০২ সালের ২২ জুন দলের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তাকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। পরে ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন। তারেক রহমানকে এক-এগারোর সরকারের সময় একাধিক মামলা, ১৮ মাসের কারাবরণ ও নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সতেরো বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে বিএনপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা পান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে অবশেষে সরাসরি নেতৃত্বে আসীন হন তিনি।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। তিনি ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বিএনপির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও তার এই জন্ম তারিখই রয়েছে। যদিও তার নির্বাচনি হলফনামায় বলা হয়েছে, তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন।
ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন বলে তার দলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনে এবার যে হলফনামা তারেক রহমান জমা দিয়েছেন, তাতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও অনেক সামরিক কর্মকর্তা পরিবারের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারকেও বন্দি করা হয়েছিল। তখন তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানও বন্দি ছিলেন। আরও জানা যায়, সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিক বিএনপিতে সক্রিয় হন। যদিও দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এবং সেই সময় খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে নির্বাচন করেছিলেন, তিনি সেগুলোর দেখভালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর টানা ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান তিনি। এর প্রায় ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। যদিও এর কয়েকদিন আগেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ায় তার ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে মায়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার মধ্যেই তিনি ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দর থেকেই পূর্বাচলে সংবর্ধনাস্থলে আসতে হয় লাখো জনতার ভিড় ঠেলে। সেখান থেকে মাকে দেখার পরদিন ২৬ ডিসেম্বর বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপরই পুরোদমে শুরু করেন রাজনৈতিক কার্যক্রম। এর কয়েক দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ১০ দিন পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অভিষিক্ত হন তিনি।
মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর লন্ডন থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। ভিডিও বার্তায় অংশগ্রহণ করেন দলীয় কার্যক্রমে। মূলত, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার আটকের পর থেকেই দলটি আসলে তার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে। তিনি সাংগঠনিক ধারাবাহিকতায় দলের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন।
সব মামলা থেকে মুক্ত হলেন : তারেক রহমানের নামে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলা ছিল। তবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে লন্ডনে থাকতেই একে একে সব মামলায় খালাস পান। নির্বাচনি হলফনামায় তারেক রহমানের নামে মোট ৭৭টি মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে খালাস কিংবা অব্যাহতি পেয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রোথিত উত্তরাধিকার : তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথপরিক্রমা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মধ্যপন্থি রাজনীতির পক্ষে ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান শহিদ হন। তখন খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোদস্তুর গৃহিণী। জাতির দুর্দিনে তিনি রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হন। বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরলেন এবং স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি বিভক্ত বিএনপিকে পুনর্গঠন করেন, নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পান এবং সেনাসমর্থিত শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। বহুবার গ্রেপ্তার, অসুস্থতা এবং দীর্ঘ কারাবাসের পরও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি শক্ত অবস্থান ধরে রাখেন।
নারীর ক্ষমতায়ন : বিরোধী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নারীদের কাজের সময় দৈনিক পাঁচ ঘণ্টায় সীমিত করার প্রস্তাব করে। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রচারে নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। বিশেষ করে গ্রাম ও নি¤œআয়ের এলাকায় নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকারমূলক একটি উদ্যোগ হলোÑ ফ্যামিলি কার্ড, যার মাধ্যমে প্রান্তিক ও নি¤œআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে নারীদের হাতে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’র মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড কর্মসূচি স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করবে, স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শক্তিশালী করবে, মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা উন্নত করবে এবং অধিকাংশ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী হবেন নারীরা। নগরীতে নারীদের জন্য বিশেষ বাস সেবা ও কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধাও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
কর্মসংস্থান, সুযোগ ও সুশাসন :
বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশি^ক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থার সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, গ্রামীণ নারীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা :
রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসন থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে উন্নীত হওয়ার তার রাজনৈতিক যাত্রা অনন্য। পারিবারিক উত্তরাধিকার হয়তো তার জন্য ক্ষমতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কার্যকরী শাসনব্যবস্থা। পরিকল্পনা প্রস্তুত। জনগণের ম্যান্ডেট স্পষ্ট। প্রত্যাশা অনেকÑ যেটি বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সবসময়ই থাকে। এখন আর প্রশ্ন নেই যে তার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কীভাবে সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন, সেটাই মূল প্রশ্ন। বহু জটিল চ্যালেঞ্জের মধ্যে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন এই প্রত্যাশা সকলের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন